করোনায় বিধ্বস্ত আমেরিকা। সে দেশে ক্রমশ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধু আক্রান্ত হওয়া নয়, বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে ওষুধ নিয়েছে আমেরিকা। এবার বাংলাদেশ থেকেও ওষুধ নিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে আমেরিকা, এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

এর আগে বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে পিপিইসহ আরও ২৫টি স্বাস্থ্য সামগ্রী আমদানি করতে আগ্রহী এবং এরমধ্যে ১৪টি পণ্যের বিষয়ে দুদেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সে দেশের বিদেশমন্ত্রকের একজন আধিকারিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে সম্প্রতি ১০০ এর বেশি ওষুধের তালিকা দিয়েছি যেগুলো এফডিএর অনুমতি সাপেক্ষে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো যেকোনও মুহূর্তে রফতানি করতে সক্ষম।’

এগুলো কী ধরনের ওষুধ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণ রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ওষুধ যেগুলো আমাদের কোম্পানিগুলো প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করতে সক্ষম।’ এই তালিকা আগে দেওয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, ‘ওষুধ অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সংখ্যক কোম্পানির কাছ থেকে এটি আমদানি করে থাকে। করোনাভাইরাসের কারণে তারা বুঝতে পেরেছে এই কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং এই সুযোগটা আমরা নিয়েছি।’

করোনাভাইরাসের প্রভাব কয়েক মাস বা বছরের মধ্যে চলে যাবে না এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে এখন বিভিন্ন দেশ থেকে ওষুধ নিতে আগ্রহী, বাংলাদেশ এই সুযোগ নিতে চায়।’ বাংলাদেশ অত্যন্ত সীমিত আকারে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি ওষুধ রফতানি করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানকার ওষুধ বাজার অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত কিন্তু কিছু সংখ্যক ওষুধের রফতানির অনুমতি পেলেও অন্য অনেক লাভ আছে।’ এফডিএ সার্টিফাইড কোম্পানি ও ওষুধ পৃথিবীর যেকোনও দেশে রফতানি করা যায় এবং এর ফলে সুনাম তৈরি হয় জানিয়ে ওই আধিকারিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের কারণে অন্য দেশেও ওইসব ওষুধের রফতানি বাড়ার সম্ভাবনা আছে।’

এফডিএ’র অনুমোদন পেতে কতদিন লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি নির্ভর করে কি ধরনের ওষুধ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আগ্রহের ওপর।’ জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে অনুমতি পেতে বছরের ওপর লেগে যায় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কম সময় লাগে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি ঠিক যে আমাদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে কিন্তু কোভিড-১৯ এর জন্য আমাদের এই সুবিধাটি তৈরি হয়েছে।’

আমেরিকার বাজারে প্রবেশের জন্য ফ্যাক্টরি লাইসেন্সিং-এর পাশাপাশি ওষুধও অনুমোদিত হতে হয় অর্থাৎ কোম্পানিটি রফতানি করার উপযুক্ত এই অনুমোদন পাওয়ার পরে প্রতিটি ওষুধের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে অনুমোদন নিতে হয় বলে তিনি জানান। বাংলাদেশের বেক্সিমকো, স্কয়ার, ইনসেপ্টাসহ পাচঁটি কোম্পানি ইতিমধ্যে এফডিএ অনুমোদন পেয়েছে এবং বেক্সিমকো কয়েকটি ওষুধ রফতানি করছে বলেও তিনি জানান।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও