ওয়াশিংটনঃ  গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার সীমান্তে দাঁড়িয়ে দাদাগিরি দেখিয়েছে বেজিং। যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই ঠান্ডা। গানওয়াল সহ সীমান্তের একাধিক পয়েন্ট থেকে সরে গিয়েছে চিনের বাহিনী। প্রায় আড়াই কিলোমিটার সরে গিয়েছে। ভারত যেভাবে চিনের আগ্রাসনের জবাব দিয়েছে তা যথোপযুক্ত বলে মনে করেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও।

তাঁর মতে, সীমান্ত সমস্যাকে উস্কানি দেওয়াটা বেজিংয়ের পুরনো অভ্য়াস। তাঁর মতে, বিশ্বের কোনও দেশের উচিত নয়, চিনের এই দাদাগিরিকে প্রশ্রয় দেওয়ার। সীমান্তে চিনা বাহিনীর দাদাগিরি প্রসঙ্গে আরও মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আমার বহুবার আলাচনা হয়েছে। চিনারা অবিশ্বাস্যভাবে আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়েছে। ভারত সেরা জবাব দিয়েছে বলে মনে করেন মার্কিন বিদেশ সচিব।

সোমবারই, লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার খবর এসেছে। চিনের সেনাবাহিনী সরে গিয়েছে বলে আগেই খবর এসেছে। এবার সেই কথা স্বীকার করেছে চিন। চিনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের বিদেশমন্ত্রী ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ‘গত ৩০ জুন কমান্ডার লেভেলের তৃতীয় বৈঠকের পর সরে গিয়েছে দুই দেশের সেনা।’

আরও জানা গিয়েছে, যৌথভাবেই ক্যাম্প সরানোর বিষয়টিকে যাচাই করে বিশ্বাস অর্জনের কাজ দ্রুত শেষ হবে। এখনও অবধি গালওয়ানের পিপি-১৪ পেট্রলিং পয়েন্ট অবধি টহলদারি চালাচ্ছিল চিন। ভারত ও চিন যৌথভাবে সংঘর্ষ এড়ানোয় সম্মতি প্রকাশ করলে বর্তমানে এই বিধিনিষেধ লাগু করা হয়েছে।

এলএসি নিয়ে সংঘর্ষ এঁরাতে দুই দেশই গালওয়ান নদীর চত্বরের ৩ কিলোমিটার এলাকায় কিছুটা বাফার জোন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ভারতের তরফে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে চিন সেনা সরিয়েছে কিনা সে বিষয়টিও প্রতিনিয়ত নজর রাখা হয়েছে।

পম্পেও জানিয়েছেন, এশিয়া অঞ্চল তথা সমগ্র বিশ্বে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক জি জিনপিং ও তাঁর ব্যবহার সম্পর্কে একটা কথা বলতে চাই। (লাদাখে) চিনা কমিউনিস্ট পার্টির এই আগ্রাসনকে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। একে বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতে দেখা উচিত।

চিনা সেনার দাদাগিরি
file pic

অন্যদিকে, বিশ্ব পরিবেশ আদালতে ভুটানের বিরুদ্ধে সীমান্ত সমস্যার মামলা দাখিল করেছে চিন। পম্পেও বলেন, হিমালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ভিয়েতনামের সমুদ্র— সীমান্ত সংঘাতকে উস্কানি দেওয়ার একটা অভ্যাস রয়েছে চিনের। বিশ্বের উচিত নয় এই ধরনের দাদাগিরিকে সমর্থন করা বা তাকে প্রশ্রয় দেওয়া। সবাইকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব