প্রতীকী ছবি

জলপাইগুড়ি : বাংলার ‘অ্যাম্বুলেন্স ম্যান’ করিমুল হক। কারও কাছে আবার ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’। বাইকে চেপে ডুয়ার্সের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে চিকিৎসার আপদকালীন পরিষেবা দেন জলপাইগুড়ির প্রত্যন্ত এক গ্রামের এই মানুষটা। দেশের ‘পদ্মশ্রী’ তিনি। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রক চাইছে করিমুল সাহেবের এই মহতী পরিষেবা চা–বলয় পার করে ছড়িয়ে পড়ুক আরও বহুদূর। সীমানা ছাড়িয়ে সীমান্তে।

দেশের প্রত্যন্ত, দুর্গম এলাকায় করিমুলের এই অ্যাম্বুলেন্স বাইক ব্যবহার করা যায় কি না তা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করেছে মন্ত্রক। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় কর্তব্যরত সেনা–কর্মীদের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এই বাইক ব্যবহার করতে চাইছে তারা। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (ডিআরডিও) ইতিমধ্যে এক প্রতিনিধিদলকে দিল্লি থেকে জলপাইগুড়ি পাঠিয়েছে।

ডিআরডিও টেকনিক্যাল কো–অর্ডিনেটর দিবাকর শর্মা আপাতত রয়েছেন করিমুল সাহেবের রাজাডাঙার বাড়িতে। সব খুঁটিনাটি দেখার ভার তাঁর কাঁধেই। আর যাঁকে ঘিরে এত কাণ্ডকারখানা সেই করিমুল সাহেবের কী বক্তব্য? স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত তিনি। জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রক থেকে তাঁর কাছে প্রথমে ফোন এসেছিল। জানতে চাওয়া হয়েছিল সীমান্তে স্বাস্থ্যপরিষেবায় তাঁর বাইক অ্যাম্বুলেন্স কতটা কার্যকরী হতে পারে। তখনই জানানো হয়েছিল বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে এক প্রতিনিধিদল যাবে জলপাইগুড়ি।

সেইমতই দিবাকর শর্মা গিয়েছেন তাঁর বাড়ি। করিমুল হকের সঙ্গে বাইক অ্যাম্বুলেন্সে তিনিও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন। সঙ্গে খাতায় নোট করে নিচ্ছেন যা যা তথ্য দরকার। দিল্লি ফিরে গিয়ে ডিআরডিওতে রিপোর্ট জমা করবেন।

হতে পারে মালবাজার ব্লকের ক্রান্তির রাজাডাঙার রত্ন করিমুল হকের ‘সৃষ্টি’ আরও একবার নজির তৈরি করবে। লিখবে ইতিহাস। গোটা দেশ কুর্নিশ জানাবে আরও একবার করিমুলসাহেবকে। বিশ্বের দরবারে আরও একবার উজ্জ্বল হবে বাঙালির নাম। হতে পারে সেদিন আসতে হয়তো খুব বেশি দেরী নেই ।

Advertisements