ঢাকা: শুরু হয়ে গেল অমর একুশ বইমেলা৷ কলকাতায় যখন আন্তর্জাতিক বইমেলা ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে৷ ঠিক তখনই একমাস ব্যাপী প্রাণের মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ তথা বাংলা ভাষার অন্যতম কবি শঙ্খ ঘোষ৷ মিশরীয় সাংবাদিক লেখক মুহসেন আল আরিসি।

আরিসি লিখেছেন ‘হাসিনা হাকাইক আসাতি’ বই৷ সেই প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। মুসলিম প্রধান একটি দেশে একজন মহিলা হয়ে নেতৃত্বে এসে শেখ হাসিনা কীভাবে মানুষের দিনবদলের রূপকার হয়ে উঠলেন, সেই কথা বইতে লেখা হয়েছে৷ বইটির নাম বাংলায় ‘শেখ হাসিনা: যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’।

ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ৷ পাকিস্তানি শাসনের সময় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার মর্যাদা চেয়ে আন্দোলনে গুলি চলে৷ সেই শহিদদের স্মৃতিতেই দিনটি পরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি পেয়েছে৷ ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি৷ এক মাস ধরে চলবে অমর একুশে বইমেলা৷

শুক্রবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলার’ উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা বলেন-বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার জন্য নয়, বইমেলা বাঙালির প্রাণের মেলা। তিনি বলেন, যতই আমরা যান্ত্রিক হই না কেন, বইয়ের চাহিদা কখনো শেষ হবে না। নতুন বইয়ের মলাট, বই শেলফে সাজিয়ে রাখা, বইয়ের পাতা উল্টে পড়ার মধ্যে যে আনন্দ আছে, আমরা সবসময় তা পেতে চাই।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রামেন্দু মজুমদার। দেশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রভাষা আর ইতিহাস নিয়ে নতুন প্রজন্মকে জানাতে আরও বেশি বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷ অনুষ্ঠানে ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই অনুষ্ঠানেই শেখ হাসিনা এবারের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া চারজনের হাতে সম্মানপত্র তুলে দেন।কবিতায় কবি কাজী রোজী, কথাসাহিত্যে মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল, প্রবন্ধ ও গবেষণায় বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ এবং মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্যের জন্য গবেষক আফসান চৌধুরী পুরস্কার পেয়েছেন।