ঢাকা: উগ্র ইসলামি সংগঠনের হামলা হতেই পারে। বইমেলার বাইরে নিরাপত্তার প্রবল অভাব থাকছে। ফলে বিভিন্ন যুক্তিবাদী ও মুক্তমনা প্রকাশকদের তাড়া করছে ভয়। এমনই রিপোর্ট দিয়েছে বিবিসি।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ, অমর একুশে গ্রন্থমেলায় কোনও রকম বিতর্কিত ধর্মীয় ইস্যু ভিত্তিক বই প্রকাশ ও বিক্রি করা চলবে না। এতে কড়া নজর রাখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

ঢাকা পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, তেমন বই দেখলেই বাজেয়াপ্ত করা হবে। সেক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙার অভিযোগে লেখক বা প্রকাশকের বিরুদ্ধে শাস্তি ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

বিবিসি জানাচ্ছে বাংলাদেশে অমর একুশে গ্রন্থ মেলার চালচিত্র গত কয়েক বছর ধরে অনেকটাই বদলে গেছে।মেলায় কোন ধরনের বই আসছে সেটি নিয়ে গত দু বছর ধরে সজাগ মেলা কর্তৃপক্ষ।

এই অমর একুশ গ্রন্থ মেলার বাইরে সবার সামনেই কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি যুক্তিবাদী অভিজিৎ রায়কে। মারাত্মক আঘাত পেয়েও অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী রফিদা আহমেদ বন্যা।

সেই ঘটনার আগে ও পরে আরও একাধিক যুক্তিবাদী লেখক খুন হয়েছেন বাংলাদেশে। আক্রান্ত বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা। বিবিসি রিপোর্টে বলা রয়েছে, ২০১৫ সালে অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে খুনের পর বই মেলা আসলেই একটি বাড়তি সতর্কতা দেখা যায়।

বিবিসি প্রতিবেদন তুলে ধরেছে, যুক্তিবাদীদের ক্রমাগত খুনের ঘটনায় কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠনগুলোর ভয়ে অনেক লেখক নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

অমর একুশ গ্রন্থমেলা মানেই কয়েক বছর আগেও যুক্তিবাদী, মুক্ত আলেচনার বইতে ভরপুর থাকত। লেখকরা নির্ভয়ে লিখতেন। বিবিসি রিপোর্টে উঠে এসেছে, পরিস্থিতির সাম্প্রতিক ছবি।

যেমন চলতি অমর একুশ বইমেলায় বাংলাদেশি যুক্তিবাদী লেখকরা নিজেদের বই থেকে কিছু প্রবন্ধ বাদ দিয়েছেন। তিনি ভীত। হামলার আশঙ্কায় এই কাজ করেছেন তিনি।এরকম আরও অনেকে রয়েছেন।

একদিকে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশ অন্যদিকে হামলার আশঙ্কা সবমিলে বিতর্কিত কোনও ধর্মীয় ইস্যু সংক্রান্ত বিষয় থাকছে না। তবে বিভিন্ন আঙ্গিকে গল্প-কবিতা থাকছেই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বহু বইও থাকছে।

উগ্র ইসলামপন্থীদের হাতে একের পর লেখক প্রকাশক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত যেমন হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে হামলাকারীদের খতমও করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি তৎপরতা এখন কম। তবুও যুক্তিবাদী লেখক ওপ্রকাশকরা ভীত। কারণ, সরকার জানিয়েছে, মত প্রকাশের সীমা লঙ্ঘন যেন না করা হয়।

বিবিসি রিপোর্টে উঠে এসেছে সেই অবস্থা। লেখকরা বলছেন, চিন্তার জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে।এখন শুধু নির্ভেজাল প্রেমের গল্প কিংবা কবিতা প্রকাশ করাকেই অনেকে নিরাপদ মনে করেন।

যে মুক্তমনা আলোচনা ছিল অমর একুশে বইমেলার অন্যতম সম্পদ সেটা ধর্মীয় নাগপাশে হাঁসফাঁস করছে।