মুম্বই: কোহলিদের আইপিএল নিয়ে এতো তৎপরতা, অথচ হরমনপ্রীতদের আইপিএল নিয়ে কোনও হেলদোলই নেই বিসিসিআই’য়ের। উঠছিল একাধিক প্রশ্ন। সব সমালোচনার জবাব দিয়ে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় রবিবার জানিয়ে দিয়েছেন টি-২০ চ্যালেঞ্জার সিরিজ নিয়েও বিসিসিআই’য়ের পরিকল্পনা প্রস্তুত। মেয়েদের আইপিএল তথা টি২০ চ্যালেঞ্জার সিরিজ আয়োজনের বিষয়টিকে সমান গুরুত্ব সহকারে দেখছে বিসিসিআই। ছেলেদের আইপিএলের শেষ লগ্নে ১-১০ নভেম্বর মেয়েদের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন বিসিসিআই সভাপতি।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই ঘোষণায় দেশীয় ক্রিকেটাররা খুশি হলেও খুশি হতে পারছেন না বিদেশি ক্রিকেটাররা। কারণটা ভীষণই স্বাভাবিক। আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর উইমেন্স বিগ ব্যাশ লিগের সূচি আগেই ঘোষণা করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বিসিসিআই’য়ের ধার্য করা সূচি অনুযায়ী আইপিএল অনুষ্ঠিত হলে সংঘাত বাঁধবে দু’দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের সূচিতে। সেক্ষেত্রে হরমনপ্রীত কর, স্মৃতি মন্ধনা, জেমিমা রডরিগেজের মতো বিগ ব্যাশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা যেমন অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলতে যেতে পারবেন না, ঠিক তেমনই আইপিএলে অংশ নেওয়া হবে না বিদেশি ক্রিকেটারদের।

আর এই নিয়েই বিসিসিআই’য়ের সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করলেন বিদেশি ক্রিকেটাররা। অজি উইকেটরক্ষক ব্যাটার আলিসা হিলি যেমন বক্রোক্তি করে বলেছেন, ‘বিগ ব্যাশের মধ্যেই আইপিএল…ভালো ব্যাপার। তাহলে বিগ ব্যাশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটাররা এখন কী করবে? আর মার্কি ক্রিকেটাররা যাঁরা বিগ ব্যাশের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় থাকবে তাঁরাই বা কী করবে? গুড লাক।’ র‍্যাচেল হেইনস বিসিসিআই’য়ের এমন সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মেয়েদের ক্রিকেটে যখন উন্নতির চেষ্টা করছে, তখন নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগীতার কোনও প্রয়োজন নেই।’ কিউয়ি তারকা সুজি বেটসও এটাকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছেন।

সবমিলিয়ে মেয়েদের আইপিএল নিয়ে পরিকল্পনা প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করে দেশীয় ক্রিকেটারদের চোখে ভালো হলেও বিদেশি ক্রিকেটারদের চক্ষুশূল হয়ে রইল বিসিসিআই। স্টার্ক পত্নী হিলি সুর চড়িয়ে আরও বলেন, ‘বিগ ব্যাশ ও মহিলা বিগ ব্যাশ আলাদা উইন্ডোয় আয়োজন করা গেলে আইপিএল ও মহিলা আইপিএল কেন পারবে না?’ বিদেশি ক্রিকেটারদের চ্যালেঞ্জার সিরিজে খেলার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে এখনও কোনও জবাব আসেনি বিসিসিআই’য়ের তরফে। তবে এমন সূচি সংঘাত না হলেই ভালো হত বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহলও।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা