নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর: খিড়কি পুকুরে মাছ চাষের প্রশিক্ষণ শুরু হল হলদিয়া ব্লকে৷ বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই হাতেখড়ি হল সেই প্রশিক্ষণের৷ অংশ নিলেন স্থানীয় ২৫ জন মহিলা৷ এই বিশেষ পাঠ মহিলাদের স্বনির্ভরতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করছে জেলা প্রশাসন৷

খিড়কি পুকুর শব্দটা শহুরে মানুষের কাছে আনকোরা হতে পারে৷ কিন্তু গ্রামেগঞ্জে এই পুকুর বহুল পরিচিত৷ বাড়ির পিছন দিকের পুকুরকে বলা হয় খিড়কি পুকুর৷ এ পুকুর বাড়ির মেয়ে-বউদের বড্ড আপনার৷ কাপড় কাচা, বাসন মাজা, রোজকার যা কিছু সাফ পরিষ্কারের কাজ এখানেই সারেন তাঁরা৷ জেলা প্রশাসন বাড়ির মহিলাদের নিজস্ব সেই পুকুরকেই কাজে লাগাতে চাইছে৷

যেখানে তাঁরা দৈনন্দিন কাজ করেন, সেইসব পুকুরেই জিওল মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন হলদিয়া ব্লক প্রশাসন৷ কীভাবে মাছ চাষ করবেন সেটাই শেখানো হবে হাতে কলমে৷ প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে চাষের জন্য বিনামূল্যে জিওল মাছের চারাও দেওয়া হবে৷

মঙ্গলবার আত্মা প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় খিড়কি পুকুরে মাছ চাষের প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধন করেন হলদিয়া ব্লকের বিডিও রাজর্ষি নাথ৷ সভাপতিত্ব করেন হলদিয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি খুকুমনি সাহু৷ উপস্থিত ছিলেন হলদিয়া ব্লকের মৎস্য সম্প্রসারণ আধিকারিক সুমনকুমার সাহু, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ জানা-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা৷ এই প্রশিক্ষণ শিবির চলবে আগামী দেড়মাস৷ প্রত্যেক সপ্তাহের মঙ্গলবার প্রশিক্ষণ দেবেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা৷

মঙ্গলবার প্রশিক্ষণ শিবিরে দেখা গেল মমতা ধাড়া, রীনা সামন্ত, মিনতি পাত্র, গীতা জানা, বসুমতী জানাদের৷ সকলেই গৃহবধূ৷ ঘর সামলে এসেছেন প্রশিক্ষণ নিতে৷ প্রশিক্ষণ নিয়ে হাতেকলমে এর প্রয়োগ করতে পারলে দু’টো বেশি পয়সা আসবে ঘরে৷ টুকটাক কেনাকাটার জন্য স্বামী বা সন্তানের কাছে হাতও পাততে হবে না৷

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী মহিলারা নিজে মুখে সে কথা স্বীকারও করেছেন৷ তাঁদের বক্তব্য, স্বামীর একার আয়৷ ঘরে অতগুলো খাওয়ার মানুষ৷ অভাব-অনটন লেগেই থাকে সংসারে৷ বিভিন্ন সময় তাঁরা ফসলের চাষ করেছেন৷ পুকুরে মাছও ছাড়েন৷ তবু সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারছিলেন না৷ কারণ, সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে৷ সেটা তাঁরা জানতেন না৷ কিন্তু এবার সে সুযোগ এসেছে৷ প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুনভাবে শুরু করতে চান মৎস্য চাষ৷ খিড়কি পুকুরে মাছ চাষ করেই এবার সংসার খরচ স্বামীর সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইছেন এই মহিলারা৷

হলদিয়া ব্লক মৎস্য আধিকারিক সুমনকুমার সাহু জানান, এই প্রশিক্ষণ শিবির থেকে বাড়ির মহিলারা যা শিখবেন তা মাছ চাষে কাজে লাগিয়ে রোজকার মাছের চাহিদা যেমন পূরণ করতে পারবেন৷ তেমনই খিড়কি পুকুরগুলির সঠিক ব্যবহারও হবে৷ বাড়ির মহিলাদের একেবারে নিজস্ব খিড়কি পুকুরই হয়ে উঠবে আয়ের উৎস৷ বিজ্ঞানভিত্তিক পথে মাছ চাষ করায় মাছের সার্বিক উৎপাদনও বাড়বে৷ শুরুটা ২৫জনকে নিয়ে হলেও আস্তে আস্তে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে৷