নয়াদিল্লি: উড়ানে বিলম্বের জন্য মন্ত্রীর সামনে নিজের ক্ষোভ উগড়ে গিলেন মহিলা যাত্রী৷ তাঁর বক্তব্য প্রত্যেকের সময়ের দাম রয়েছে৷ কেন ভিভিআইপি সংস্কৃতির জন্য সাধারণ মানুষের হয়রানি, প্রশ্ন তোলেন ওই মহিলা৷ সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ স্বাভাবিকভাবেই নিন্দার ঝড় উঠেছে নেট দুনিয়ায়৷

বিহারের বাসিন্দা নিরালা সিং নামে ওই যুবতী ইম্ফলের মেডিক্যাল সায়েন্স কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। ভাইয়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে পাটনায় যাচ্ছিলেন তিনি৷ কিন্তু রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সফরের জন্য তাঁর উড়ান প্রায় ঘন্টা দুয়েক পিছিয়ে যায়৷ ভাইয়ের দেহ বাড়িতে পড়ে, অথচ তিনি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন, এমন অবস্থায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি৷

সামনেই ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী কে জে আলফন্স৷ আলফন্সের সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী সুরেশ প্রভু, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা ও বিজেপি নেতা রাম মাধব। বিমানবন্দরে মন্ত্রীদের দেখতে পেয়ে ক্ষোভ উগরে দেন ডাক্তারির ওই ছাত্রী৷

তবে গোটা ঘটনাটির অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী৷ বিতর্কের মুখে দায় অস্বীকার করেছেন তিনি৷ তাঁর দাবি উড়ানে বিলম্ব হওয়ায়, ওই মহিলা নাকি তাঁর হস্তক্ষেপ চান৷ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হওয়ার জন্য তাঁর সাহায্য চান ওই মহিলা৷ তবে তাতে চিঁড়ে ভেজেনি৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার জেরে দেশজুড়ে ভিভিআইপি-সংস্কৃতির সমালোচনা শুরু হয়।

আলফন্স ওই মহিলাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, ৭০ বছর ধরে এটাই হয়ে আসছে। সর্বোচ্চস্তরের নিরাপত্তা পান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যাপারে তিনি কিছুই করতে পারবেন না। ওই তরুণী মন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে জানতে চান, পরের উড়ান কী নির্ধারিত সময়ে চলবে? মন্ত্রীমশাইয়ের জবাব, তাঁর এই অধিকার নেই।

রাষ্ট্রপতির বিমান নামার পরেই অন্য উড়ান চলাচল শুরু হবে। কিন্তু ওই মহিলা কোনও কথা শুনতে চাইছিলেন না।’ পর্যটন মন্ত্রীর দাবি, তিনি ভিআই-সংস্কৃতির বিরোধী। তিনি পাইলট জিপ ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।