গান্ধীনগর:  জল্পনাই সত্যি হল অবশেষে। বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক অল্পেশ ঠাকুর এবং ধবলসিন জালা। গুজরাতের দুই হেভিওয়েট নেতার বিজেপিতে যোগদানে মোদী রাজ্যে শক্তি আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। গান্ধীনগরে বিজেপির সদর দফতরে তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করেন। গুজরাত বিজেপির সভাপতি জিতু ভাগানির উপস্থিতি তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁদের হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুলাই রাজ্যসভার ভোটে কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দেন অল্পেশ। এরপরেই বিধায়ক পদ ছাড়েন তিনি। যদিও এপ্রিল মাসে লোকসভা ভোটের ঠিক আগে কংগ্রেসের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। প্রকাশ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা বাড়িয়ে তোলেন অল্পেশ।

যদিও সেই সময় দলিত নেতা ও গুজরাতের প্রাক্তন বিধায়ক সব জল্পনার অবসান করে জানায়, আপাতত বিজেপি যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনাই নেই তাঁর৷ যদিও একাদিক বিজেপি নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন৷ সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তাঁর মন্তব্য ছিল, বিজেপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও, তিনি আপাতত সেই পথে পা বাড়াচ্ছেন না৷ আগে স্বাধীন ভাবে নিজের এলাকার জন্য কাজ করতে চান তিনি৷

কিন্তু বেশি দিন আর অপেক্ষা করলেন না। সমস্ত জল্পনাকে খারিজ করে বিজেপিতে যোগ দিলেন অল্পেশ। বায়াদের বিধায়ক ধবলসিন জালাকে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন অল্পেশ। তাঁর যোগদানে বিজেপি আরও শক্তি পাবে বলে আশা স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েক বছর আগে সংরক্ষণ নিয়ে সোচ্চার হয়ে লাইম লাইটে এসেছিলেন অল্পেশ ঠাকুর৷ ২০১৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে৷ গুজরাত নির্বাচনের আগে রাধানপুর থেকে দাঁড়িয়ে নির্বাচিত হন৷ একসময় বিহার কংগ্রেসের সেক্রেটারি-ইন চার্জ ছিলেন অল্পেশ৷ পরবর্তীকালে ঠাকুর সেনা নামে একটি সংগঠন নিজের হাতে তৈরি করেন৷ তবে লোকসভা ভোটের সময় কংগ্রেস ত্যাগ করেন৷ কারণ হিসাবে জানান, তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে৷ দলে তিনি বৈষম্যের শিকার৷

অপরদিকে কংগ্রেসও অল্পেশের কাজকর্মে অখুশি ছিল৷ তাঁর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজেরও অভিযোগ ওঠে৷ কংগ্রেস গুজরাত বিধানসভার সচিবের কাছে অল্পেশের বিধায়ক পদ খারিজের দাবি জানায়৷ অল্পেশ দলত্যাগ তো করেন, সঙ্গে কংগ্রেসের যে সব পদে ছিলেন সবকিছু থেকে ইস্তফা দেন৷