সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : এ কেমন এপ্রিল! স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা নীচে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আর্দ্রতার পরিমাণও যথেষ্ট কম। শহরে বৃষ্টি ঝড় কিছুই হয়নি। অন্যন্য জেলাতেও বৃষ্টির খবর নেই। তবু স্বাভাবিকের অনেকটা নীচে নেমে গিয়ে গত চার দশকের রেকর্ড ভেঙেছে এপ্রিল মাসে কলকাতার তাপমাত্রা। দিল্লির মৌসম ভবন এমন তথ্যই দিচ্ছে।

মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী ১৯৮১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এপ্রিল মাসের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত কলকাতার তাপমাত্রা সবথেকে কম ছিল ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৯ সাল ২০ এপ্রিল শহরের পারদ চমকে দেওয়ার মতো। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে যা তিন ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি কম। আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৪৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার থেকে শহরের সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন তাপমাত্রার দিকে চোখ রাখলে স্পষ্ট হয়ে যাবে কিভাবে ক্রমে নেমেছে শহরের পারদ। শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৯ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন ২৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক। আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৩২ শতাংশ। এক কদম পিছিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতার তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস,স্বাভাবিক। সর্বনিম্ন ২৪.৬ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি কম। আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৩৮ শতাংশ। বুধবার সকালে শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৪ডিগ্রি সেলসিয়াস,স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন ২৫.৬ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক। আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৪৩ শতাংশ। এভাবেই তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিমান কমেছে কল্লোলিনীতে।

এই সপ্তাহের শুরুতে মঙ্গলবার রাতের দিকে নদীয়া জেলায় ঝড় বৃষ্টির কিছুটা প্রভাব পড়েছিল কলকাতার উপর। সেদিন থেকেই ছিটেফোঁটা বৃষ্টির ঠাণ্ডা হাওয়া রাতের গুমোট ভাবকে কিছুটা পরিবর্তন করেছিল। ক্রমে তা আরও পরিবর্তন হয়েছে। হাওয়া অফিসের পারদ সেই কথাই বলছে। কিন্তু এর কারণ কি ? কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, ১৮ তারিখ থেকে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে কাশ্মীরে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ছত্তিশগড় লাগোয়া একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এর জেরেই একটা ঠাণ্ডা আবহাওয়া তৈরি হয়েছে কলকাতায়। সমগ্র রাজ্যেও তুলনামূলক অনেকটাই কম রয়েছে তাপমাত্রা।

প্রসঙ্গত, হাওয়া অফিস অনেক আগেই জানিয়েছে সারা রাজ্যে এই বছর তুলনামূলক কম গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ঠিক সেটাই হচ্ছে। এদিকে দিল্লির মৌসম ভবন দেশবাসীর জন্য সুখবরও দিয়ে দিয়েছে । জানানো হয়েছে বর্ষার পরিমাণ এই বছর স্বাভাবিকই থাকবে। বৃষ্টি হবে ৯৬ থেকে ১০৪ শতাংশ , যা আবহবিদদের অঙ্কের নিরিখে স্বাভাবিক৷