স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: একদা বাম দূর্গ বলে খ্যাত বর্ধমান জেলায় দাপট দেখাচ্ছিল ঘাস ফুল। সেই জেলাতেই বিজেপির পতাকাতলে এলেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। সৌজন্যে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের বিজেপির বিশেষ সাফল্য।

শুক্রবার বর্ধমানের কার্জন গেট চত্বরে বিজেপির দলীয় সভায় রায়না, খন্ডঘোষ ও বর্ধমান শহরের প্রায় তিন হাজার পুরুষ ও মহিলাকে বিজেপিতে যোগদান করিয়ে এই বিষয়ে আন্দোলনের ডাক দিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী। এদিন বিকালে বর্ধমানের কার্জন গেটে বিজেপির দলীয় সভায় যোগদানকারীদের হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন- লোকসভার ক্ষত সারাতে ২৭ দিনের ‘পদ যাত্রায়’ জোর তৃণমূলের

অবিভক্ত বর্ধমান জেলার একাধিক আসন গিয়েছে বিজেপির দখলে। বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। আবার আসানসোল কেন্দ্রেও নিজের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছেন বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ কেন্দ্রটি পরে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের অধীনে। সেই কেন্দ্রেও জিতেছে বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ। যিনি মাস খানেক আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন- বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার প্রতিবাদে রাজ্য সড়ক অবরোধ স্থানীয়দের

বিপুল জনাদেশ নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এবারের জয় ২০১৪ সালের ফলকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। দিল্লি দখলের পর এবার লক্ষ্য রাজ্য দখল। আর তারই প্রস্তুতি হিসাবে এলাকাভিত্তিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজেপি দলে ঢোকার দরজা হাট করেই খুলে দিল গেরুয়া শিবির।

একই সঙ্গে পঞ্চায়েত দখলের পাশাপাশি পুরসভা দখলেরও মহড়া শুরু করে দিল বিজেপি। গোটা রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন আটকে রেখে সংবিধানকে অবমাননা করছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। অবিলম্বে রাজ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণ সমস্ত পুরসভায় নির্বাচন করার দাবীতে এবার গোটা রাজ্য জুড়েই চাপ সৃষ্টিকারী আন্দোলন গড়ে তুলতে চলেছে গেরুয়া শিবির।

আরও পড়ুন- মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালীন দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত সিভিক ভলান্টিয়ার

বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী এদিন যাঁরা যোগ দেন তাঁদের উদ্দেশ্যে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এদিন থেকেই গোটা জেলা জুড়ে সর্বত্র দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন যে অন্য সকল রাজনৈতিক দল থেকে যারা বিজেপিতে নাম লেখাতে চাইছে সকলকেই যেন পদ্মের পতাকাতলে নিয়ে আসা হয়।