সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : শতাব্দী প্রাচীন দ্য স্টেটসম্যান খবরের কাগজের বৃহস্পতিবারের সংস্করণটি প্রকাশিত হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি , দ্য স্টেটসম্যান এবং দৈনিক স্টেটসম্যানের এদিনের সংস্করণটিকে বাজারে দেখা যায়নি। ছেপে বেরনো কোনও সংস্করণই বাড়ি বাড়ি পৌঁছায়নি এমন অভিযোগও রয়েছে।

জানা গিয়েছে পত্রিকার একটি বড় অংশ কাজে যোগ দিচ্ছেন না। তাঁর ফলেই এই পরিস্থিতি। kolkata24x7-এদিন সকালে স্টেটসম্যানের ধর্মতলার অফিসে যায়। সেখানে দেখা যায় বহু কর্মী সেখানে বসে আন্দোলন করছেন। বেশ কয়েকজন মহিলা কর্মীকেও এই আন্দোলনে দেখা গিয়েছে। বহু কর্মী যারা রাতেও আন্দোলন করছিলেন বলে জানা গিয়েছে , তাদের ঐতিহ্যবাহী খবরের কাগজের গ্রাউন্ড ফ্লোরে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছিল বিশাল বিশাল প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন। তাদের দাবি সেখানে লেখা রয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অবস্থান করতে দেখা যায়। আন্দোলনরত স্টেটসম্যান কর্মী সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শ্যামল মুখোপাধ্যায় বলেন , “কর্মীদের উপর বিভিন্নরকম অরাজকতা চলছে। ম্যানেজমেন্টে থাকা ব্যক্তিকে এডিটোরিয়াল পদে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা অনেক দিন ধরেই হচ্ছে। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে। যখন তখন যাকে খুশি বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দিচ্ছে কোনও কারণ ছাড়াই।

এই জন্য ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বলে আরও একটি সংগঠন রয়েছে তারা সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে একজোট হয়ে আন্দোলন করেছে। তাই সন্ধ্যাবেলা থেকে পেন ডাউন চলছে এডিটোরিয়াল ডিপার্টমেন্টের কিছু অংশে। এবার ঘটনা হল আমাদের কাজটা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। লেখা না হলে ছাপা হবে না। লেখা আসেনি তাই ছাপাও হয়নি। ফলে আজ কাগজ বেরোয়নি।”

দ্য স্টেটসম্যানের কো-অর্ডিনেটিং এডিটর উদয় বসু বলেন, “আমি আউট অফ স্টেশন আছি। এই বিষয়ে কোনও তথ্য আমার কাছে নেই।” ম্যানেজিং এডিটর রবীন্দ্র কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর সেক্রেটারি বলেন , “আমি কিছু জানেন না। আন্দোলনের বিষয়ে কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই।” ঐতিহ্যবাহী খবরের কাগজ আন্দোলনের জেরে প্রকাশিতই হয়নি সেকথাও তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন। আবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মীর থেকে জানিয়েছে, “রিপোর্টিং ও ডেস্ক পার্সনরা কাজ করেছেন কিন্তু প্রযুক্তিগত দিকটি যারা সামলান তারা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে নিজেদের ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়ে চলে যান। ফলে সাংবাদিকদের অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছিল।”

এদিকে কর্মী সংগঠন জানিয়েছে , আজ তাদের একটি মিটিং হবে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে। সেই মিটিংয়ের উপর নির্ভর করছে আগামীকাল কাগজ বেরোবে নাকি ফের আরও এক দিন কাগজ প্রকাশনা বন্ধ থাকবে।

দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকা , ভারতের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যম। ভারতীয় সাংবাদিকতার গৌরবময় অংশের সঙ্গে জড়িত এই সংবাদপত্র। সাংবাদিকতার জগতের বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব এই সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন। পত্রিকাটি ভারতের কলকাতা, নয়াদিল্লি, শিলিগুড়ি ও ভুবনেশ্বর থেকে প্রকাশিত হয়। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পত্রিকার প্রধান কার্যালয় কলকাতার চৌরঙ্গীর স্টেটসম্যান হাউস। নয়াদিল্লির কর্নাড প্লেসে অবস্থিত স্টেটসম্যান হাউস এটির জাতীয় সম্পাদনা কার্যালয়।