কলকাতা: নবান্নে বিজেপি বিরোধী জোট গঠনের জোর প্রস্তুতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নাইডুদের৷ একই দিনে সেই জোটের প্রয়াসকেই কটাক্ষ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের৷ প্রস্তাবিত বিরোধী জোটকে ‘অস্তিত্বহীন’ বলে খোঁচা গেরুয়া শিবিরের চাণক্যের৷

আরও পড়ুন: বঙ্গ সিপিএম জোট গড়ল বিজেপির সঙ্গে!

কোন পথে হবে জাতীয়স্তরে বিজেপি বিরোধী জোট৷ রোড ম্যাপ নির্ধারণে সোমবার টিডিপি সুপ্রিমো চন্দ্রবাবুর সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বৈঠক শেষে দেশজুড়ে মোদী বিরোধিতার সুর আরও চড়ালেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী৷ পাশে পেলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷

সোমবার নবান্নে মমতার সঙ্গে বৈঠকের পর চন্দ্রবাবু জানালেন, ‘মোদী বিরোধিতায় একসঙ্গে লড়বেন তাঁরা৷’ জোটের ‘মুখ’ কে? এই প্রশ্ন এদিনও কার্যত এড়িয়ে গিয়েছেন বিজেপি বিরোধী জোটের দুই মুখ৷

আরও পড়ুন: মোদীকে ভয় পাচ্ছে বিরোধীরা: অমিত শাহ

আর এই বিষয়টিকেই তুলে ধরে বিরোধীদের জোটের সমালোচনায় সরব বর্তমান শাসক শিবির৷ এদিন বিজেপি সভাপতি বলেন, ‘‘বিরোধীদের জোট আসলে অস্তিত্বহীন৷ মানুষকে ঠকাচ্ছেন ওঁরা৷’’

আসন্ন পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে লোকসভার সেমিফাইনাল হিসাবে দেখা হচ্ছে৷ মনে করা হচ্ছিল জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটবে এইসব রাজ্যের ভোট থেকেই৷ কিন্তু বাস্তবে হল উলটো৷ স্রোতের বিপরীতে হেঁটে মধ্যপ্রদেশ ছত্তিশগড় বা পঞ্জাব, গো-বলয়ের এই সব রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাননি অখিলেশ, মায়াবতীরা৷ তবুও অধিকাংশ সমীক্ষায় প্রকাশ সেমিফাইনালে ভালো ফল করবে বিরোধীরা৷ যা দেখে কোমর বাঁধছেন রাহুল, মমতা, চন্দ্রবাবুরা৷

আরও পড়ুন: সূর্যকান্তকে গিলে খাবেন দিলীপ …

বিরোধীদের আশায় জল ঢেলে অমিত শাহের চ্যালেঞ্জ, ‘‘১১ই ডিসেম্বর প্রমাণ হয়ে যাবে কার কত শক্তি৷’’ তিনি বলেন, ‘‘আসন্ন ভোটে পাঁচ রাজ্যেই ভালো ফল করবে বিজেপি৷’’ এবারও কি ‘পোস্টার বয়’ নরেন্দ্র মোদী? এক প্রশ্নের জবাবে বিজেপি সেনাপতির উত্তর, ‘‘মোদীজীকে সামনে রেখেই ভোট হবে৷ এবার মোদী ক্যরিশ্মার সঙ্গে যোগ হয়েছে তাঁর সরকারের গত পাঁচ বছর ধরে করা উন্নয়ন৷’’

কী কারণে এত আত্মবিশ্বাসী বিজেপি সভাপতি? অমিত শাহের উত্তর স্পষ্ট৷ মুখে না বললেও, ছত্রভঙ্গ বিরোধীদের জন্য কার্যত তিনি দায়ী করলেন ‘পাপ্পু’ রাহুল গান্ধীকে৷ বললেন, ‘‘জোটের আগেই এই সব বিধানসভা ভোট থেকে দেখা গেল বিরোধীদের ঐক্যের নজির৷ একটা স্বৈরাচারী দল আঞ্চলিক দলগুলির প্রাধান্য মেনে নিতে পারবে না৷’’ দলের সভাপতির এই মন্তব্যের পর রাহুল গান্ধী স্টান্স বদলাবেন কী? শুরু হয়েছে জল্পনা৷

আরও পড়ুন: মঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রী গাইলেন, “দিল দিয়া হ্যায়”

একদিকে কোন সমীকরণে জোট হবে তা নিয়ে জোর চর্চা৷ অন্যদিকে, জোচের অস্তিস্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছে শাসক শিবির৷ উত্তরে হিমেল হাওয়ার মাঝেই ক্রমশ পারদ চড়ছে রাজনীতির ময়দানে৷