আউশগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান : ষষ্ঠ দফার নির্বাচনেও অশান্তি অব্যাহত। ৪ জেলার ৪৩টি কেন্দ্রের প্রায় সবকটি থেকেই কমবেশি শান্তির খবর আসছে। এরই মধ্যে আউশগ্রাম থেকে পুলিশকে হুমকির চাঞ্চল্যকর হুমকির অভিযোগ এসেছে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি অরূপ মিদ্যার নামে । অভিযোগ অরূপ মিদ্যা পুলিশকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, “শীতলকুচি করতে যাবেন না। তিনদিন বাদে আমাদের সরকার আসছে। তখন আপনাকে দেখে নেব।” আউশগ্রাম বিধানসভার প্রতাপপুরের ডাঙাপাড়া এলাকায় পুলিশকে হুমকি দেওয়ার এই অভিযোগের প্রতিবাদে বিজেপি কমিশনের কাছে নালিশ জানাবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার।

আউশগ্রামরের ভালকি অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি অরূপ মিদ্যা। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতাপপুরের ডাঙাপাড়া এলাকার সামনে বেশ কয়েকজনের জমায়েত হয়েছিল। এই জমায়েত দেখে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা জমায়েত সরাতে এলেই অরূপ মিদ্যা এই হুমকি দেন। তখনই নাকি অরূপ মিদ্যা শীতলকুচির ঘটনার উল্লেখ করে হুশিয়ারি দেন, এমনটাই অভিযোগ। তিনদিন বাদে তৃণমূল (TMC) সরকার এলে পুলিশকর্মীদের দেখে নেওয়ার কথা বলে তিনি পুলিশকে হুমকি দিয়েছেন বলে বিজেপি-র তরফে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও আরূপ মিদ্যার কথায় কোনও গুরুত্বই দেয়নি ওই খানে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। বরং পুলিশ কালবিলম্ব না করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই জমায়েত সরিয়ে দেয়।

এদিকে এই হুমকি প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, “তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীর কাজ হচ্ছে বুথ লুঠ করে ভোট করা। এতকাল ওরা পুলিশকে ভয় দেখিয়ে ভোট করেছে। পুলিশ তৃণমূলের এই দুষ্কৃতীদের দেখলে সেলুট করতো। এখন পরিস্থিতি তেমন নেই। গুন্ডামি করতে আসলে পুলিশ তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের বাধা দিচ্ছে। তাই তারা পুলিশকে হুমকি দিয়ে বলছে শীলতালকুচি করতে যাবেন না। তিনদিন পর আমরাই এসব। তখন আপনাকে দেখে নেব। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগে সেনা বাহিনীর জওয়ানদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ওরা গুলি চালাতে বললে চালাবেন না। ভোট মিতে গেলে ওরা পালিয়ে যাবে। এই ওরা বলতে তৃণমূল নেত্রী বিজেপিকেই বোঝাতে চেয়েছেন। আজ তৃণমূল নেত্রীর সেই কথারই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে তৃণমূল জেলা নেতার কণ্ঠে। ইটা আর নতুন কী!”

উল্লেখ্য, সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটছে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার আউশগ্রামের ৬৫ ও ৬৬ নম্বর বুথের সামনে সকাল থেকেই তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জমায়েত করার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগ জানায় বিজেপি । আউশগ্রামের ৯১ নম্বর বুথে বিজেপির এজেন্ট বসতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও বিজেপি-র তরফে অভিযোগ কোটরে হয়। আউশগ্রামের ২২৭, ২২৭ এ, এবং ২২৮ এ নম্বর বুথে ভোটারদের ভয় দেখানোরও অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও ষষ্ঠ দফার নির্বাচনের দিন শুরু থেকেই মঙ্গলকোট বিধানসভার ৯৪ ও ৯৫ নম্বর বুথে বিরোধীদলের এজেন্টদের বসতে দেওয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও পরে এই সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে বলেই শোনা গিয়েছে। আউশগ্রাম বিধানসভার ২২৩, ২২৪ বুথে ছাপ্পার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আউশগ্রামের ৫০ নম্বর বুথে বিজেপি সমর্থক পরিবারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে তৃণমূলের তরফে সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করা হয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.