স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: ১১ টাকার মাটির বস্তার জন্য প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা বিল। শুনে তাজ্জব মনে হচ্ছে। কিন্তু এমনটাই হচ্ছে মালদহের মানিকচক ব্লকে ফুলহার নদীর ভাঙন ও বন্যা প্রতিরোধের কাজে।

প্রায় ৪৫ মিটারের বেশী গভীরতা সম্পন্ন ফুলহার নদীতে জেলা সেচ দফতরের উদ্যোগে ২০ মিটার এলাকা জুড়ে মাটির বস্তা দিয়ে পাঁড় মেরামতির কাজ চলছে। সেচ দফতরের কর্তাদের হিসাবেই এই কাজে প্রয়োজন ৮০হাজার মাটির বস্তা। আর এই কাজের একটি বস্তার মূল্য মাত্র ১১ টাকা। এই টাকায় রয়েছে শ্রমিকদের মজুরিরসহ মাটির মূল্য।

কিন্তু এই কাজে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৪৪লক্ষ টাকা। এইখানেই এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারী টাকা লুঠ করছেন সেচ দফরের আমলা থেকে ঠিকাদার সংস্থা। একেই তো বর্ষার সময় নদীতে কাজ। তার উপর নদীর চরের মাটি কেটে তা বস্তায় ভরে জলে ফেলা হচ্ছে। কাযর্ত বিসর্জন করা হচ্ছে।

ফুলহার নদীর ভাঙনের ছোবলে গৃহহীন হয়ে পড়া বাসিন্দারা এমন কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গিয়ে ঠিকাদার সংস্থার মার্সেলম্যানদের রক্তচক্ষুর সম্মুখীন হয়েছেন। ফলে নদীর পাড়ে বসে এমন নজির দেখে নির্বাক দর্শক তারা। প্রশাসনের কর্তারা সব জানেন। তবুও নিশ্চুপ।

এই এলাকা থেকে ভোটে জিতে মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল দূর্নীতির অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে বলেন ফুলহার নদীর ভাঙন ও বন্যা প্রতিরোধের জন্য জরুরী ভিত্তিতে এই কাজ করা হচ্ছে।

তবে তপসীলি উপজাতির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ খগেন মূর্মু বলেন,” ট্রেন্ডারের অর্থের পরিমান দ্বিগুন করে অর্থলুঠের কারবার করছেন সেচদফতরের আমলা সহ ঠিকাদার সংস্থা। এই অর্থ লুঠের ভাগও রয়েছে শাসকদলের নেতৃত্বের।”

স্থানীয় বাসিন্দা থেকে উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর একই অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে জেলা সেচ দফতরের কর্তারা অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে নদীর চরের মাটি নদীতে বিসর্জন দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিজেদের পকেটাস্থ করছেন সেচ দপ্তরের কর্তা থেকে ঠিকাদার সংস্থা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই আষাঢ় মাস পড়তেই দুশ্চিন্তা আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।