স্টাফ রিপোর্টার, নন্দীগ্রাম: আমফানে ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির ঝড় এবার আছড়ে পড়ল আন্দলনের ভূমি নন্দীগ্রামেও। প্রকৃত গরিব মানুষেরা সাহায্য পাননি,অথচ তিন তলা বাড়ির মালিক সরকারি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। এমনটাই অভিযোগ। শুধু তাই নয়, দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বজনপোষণে বিদ্ধ নেতাদের বা তাঁদের আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টেও কুড়ি হাজার টাকা করে ঢুকেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সামসাবাদ, ভেকুটিয়া, কেন্দামারি-জালপাই, মহম্মদপুর, আমদাবাদ-২-সহ বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় এই নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ায় দুর্নীতি ঘিরে কোথাও বিরোধী দল, আবার কোথাও কোনও দলীয় পতাকা ছাড়াই মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বেশ কিছুদিন ধরে।

অভিযোগ, জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি শেখ সুফিয়ানের জামাই এবং তার মায়ের অ্যাকাউন্টে যেমন টাকা ঢুকেছে তেমনই অভিযোগের তির বেশ কয়েকজন তৃণমূলের প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য, বুথ ও অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধেও‌। এহেন ভুরি ভুরি অভিযোগ পেতেই খুঁটিয়ে স্ক্রিনিং শুরু করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বিষয়টি নিয়ে কড়া হন।

একেবারে নড়েচড়ে বসেন। নন্দীগ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মেঘনাদ পালকে নির্দেশ দেন কাউকে রেয়াত না করার। এরপর অভিযুক্তদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ২০০ জনকে শোকজ করা হয়। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে সেই শোকজের জবাব আসতে শুরু করেছে।

ইতিমধ্যে ৫৫ জন টাকাও ফেরত দিয়েছে বলে দাবি। জানা যাচ্ছে আগামিকাল মঙ্গলবার ৭ জুলাই শোকজের চিঠি পাওয়া নেতা, কর্মীদের নিয়ে বৈঠক হবে। তার আগেই কয়েকজন প্রধান, দলীয় পদাধিকারীরা পদত্যাগ করতে পারেন বলেও জল্পনা চলছে।

জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ শিশির অধিকারী বলেন, “দ্রুততার সঙ্গে আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা মুখ্যমন্ত্রী পাঠিয়েছেন তা ঐতিহাসিক। ক্ষতিগ্রস্তদের লিস্ট পঞ্চায়েত তৈরি করেছে। তবে যারা এটা নিয়ে দুর্নীতি করেছে কাউকে ছাড়া হবে না। শোকজ করা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে যে-ই হোক সরিয়ে দেওয়া হবে। শুধু নন্দীগ্রাম নয় জেলার প্রায় প্রতিটি ব্লকেই একই পরিস্থিতি। যা নিয়ে চিন্তিত তৃণমূলের উর্ধ্বতন নেতৃত্বরা।”

আমফানে টাকা পাওয়া নিয়ে একাধিক দুর্নীতি সামনে এসেছে। রাজ্যের বহু জেলাতে ভুরি ভুরি অভিযোগ। আর এই সংক্রান্ত ভুরি ভুরি অভিযোগ আসাতে নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হন। কড়া ভাবে বিষয়টি দেখার জন্যে শির্ষ নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন। সেই মতো দুর্নীতি-কেলেঙ্কারির প্রমাণ পেলেই শোকজ করা হচ্ছে। প্রথমে শোকজ, এরপর ঠিক উত্তর না পেলে দল থেকে বহিস্কার পর্যন্ত করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ