মালদহ: কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যর বিরুদ্ধে। দিনমজুর মা ও ছেলের কাছে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া হবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং ঘরের টাকা থেকে প্রথম কিস্তিতে অর্ধেক টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠল এলাকার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক এলাকার কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের কাপাইচন্ডী এলাকার লক্ষীপুর এর বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা প্রতিমা মন্ডল রায়ের স্বামী পবিত্র রায়ের বিরুদ্ধে আবাস যোজনাতে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মূল অভিযোগকারী দিনমজুর দিপালী মন্ডল ও তার ছেলে পরিযায়ী শ্রমিক বাদল মন্ডল।

দিপালী মন্ডলের অভিযোগ, তাঁর নামে কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে একটি আবাস যোজনার ঘরের টাকার প্রথম কিস্তির ৬০,০০০ টাকা ঢুকেছিল। সেই টাকা পেতে প্রথমে তাকে ১০ হাজার টাকা পরবর্তীকালে টাকা তোলার পর আরও ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল সংশ্লিষ্ট বুথের বিজেপি পঞ্চায়েত মেম্বারের স্বামী পবিত্র রায়কে। টাকা না দিলে পরবর্তীকালে বাকি কিস্তির টাকা পাওয়া যাবে না বলেও দিপালী মন্ডলকে জানিয়েছিল পবিত্র বাবু।

দিপালী দেবী আরও বলেন, “ঘর বানানোর প্রথম কিস্তির ৬০,০০০ হাজার টাকার মধ্যে যদি অর্ধেকের টাকা দিয়ে দিতে হয় তাহলে ঘর করব কি দিয়ে। আমার ছেলের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০০০ টাকা নিয়েছে ওই মেম্বারের স্বামী।”

অন্যদিকে দিপালী মন্ডলের ছেলে পরিযায়ী শ্রমিক বাদল মন্ডলকেও তার স্ত্রীর নামে ঘর পাইয়ে দেওয়া হবে বলে অগ্রিম হিসেবে বিজেপি মেম্বারের স্বামী পবিত্র রায় ৫০০০ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। বছর ঘুরে গেল এখনও পর্যন্ত বাদল বাবুর স্ত্রীর নামে পঞ্চায়েতে কোনও টাকা ঢোকেনি।

এ প্রসঙ্গে বাদল মন্ডল বলেন, “আমি ভিন রাজ্যের শ্রমিকের কাজ করি। লকডাউনের সময় বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। সে সময় স্থানীয় মেম্বার পবিত্র রায় আমাকে বলে তোর বউয়ের নামে আবাস যোজনা ঘর পাইয়ে দেব। ৫০০০ টাকা অগ্রিম লাগবে। আমি ধার করে সুদের উপর টাকা নিয়ে মেম্বারের সামনে পবিত্র রায়ের হাতে টাকা তুলে দিই। কিন্তু বছর ঘুরতে চলল এখনও পর্যন্ত কোনও ঘরের হদিস নেই। ধার করা টাকা সুদ এখন ও শোধ করছি। এখন বাধ্য হয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর এর বিডিও অফিসে মেম্বারের স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি।”

প্রসঙ্গত, আবাস যোজনা তে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বাড়ি বানানোর জন্য পাওয়া যায়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মেম্বার এই টাকাতে কাটমানির ভাগ বসাতে ব্যস্ত।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত বিজেপি মেম্বারের স্বামী পবিত্র রায় বলেন, “ঘর করে দেওয়ার নাম করে আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি। সম্পূর্ণ অভিযোগ ভিত্তিহীন। এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা আমাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে চক্রান্ত করছে।”

তবে এই বিষয়ে তৃণমূলের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক সভাপতি মানিক দাস বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগেই কাটমানি ইস্যুতে জর্জরিত হয়ে পড়ছে। এখন থেকেই গরিব মানুষদের টাকা বিভিন্ন ভাবে লুট করে বেড়াচ্ছে। তাহলে ক্ষমতায় আসলে কি করবে। এলাকায় এলাকায় দাঙ্গা বাধানো ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্ন করাই হল বিজেপির কাজ। এছাড়া কোনও ভালো কাজ বিজেপির দ্বারা হয় না। বিগত পাঁচ বছরে দেশবাসীকে শোষণ করে ভিক্ষুক বানিয়ে দিয়েছে এই বিজেপি সরকার।”

যদিও এই বিষয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং মন্ডল সভাপতি রুপেশ আগারওয়াল বলেন, “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। তৃণমূলের লোকেরাই ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির পঞ্চায়েত মেম্বারদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়াচ্ছে। নিজেরাই বিভিন্ন পঞ্চায়েতে কাটমানি ইস্যুতে জড়িয়ে গেছে। তাই এখন ভারতীয় জনতা পার্টির সক্রিয় কর্মীদেরকেও জড়ানোর চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে ওরা কোনও প্রমাণ দিতে পারবে না।।আর যদি আমরাই প্রমাণ পাই তাহলে ওই বিজেপি মেম্বারের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে।”

এদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক অফিসে দিপালী মন্ডল সপরিবারে বিডিওর দ্বারস্থ হয়েছেন। ওই পঞ্চায়েত মেম্বারের স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে বিডিও অনির্বাণ বসু জানান অভিযোগ পেয়েছি সম্পূর্ণ ব্যাপারটি ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।