করাচি: ভারতের কাছে হেরে সমর্থকদের কাঠগোড়ায় পাক ক্রিকেটাররা৷ রবিবার ম্যাঞ্চেস্টার মহারণে বিরাটবাহিনীর পর্যুদস্ত হয়েছে সরফরাজ অ্যান্ড কোং৷ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগের রাতে পাক ক্রিকেটারদের ল্যাভিস ডিনার ও ম্যাচের মধ্যেই পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের হাই তোলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে৷

বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের ধারা অব্যাহত রাখে পাকিস্তান৷ এর পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরফরাজদের নিয়ে ঝড় ওঠে৷ সানিয়া মির্জার সঙ্গে পাক ক্রিকেটারদের রেস্টুরেন্টে ডিনারের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়৷ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগের দিন রাতের এই ভিডিও বলে দাবি করা হয়৷ ভিডিওতে দেখা যায় সানিয়ার সঙ্গে ছিলেন স্বামী শোয়েব মালিক এবং পাকিস্তান দলে শোয়েব সতীর্থ মহম্মদ ইমাম-উল-হক৷

যদিও ভারতীয় টেনিস তারকা তথা পাক ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের স্ত্রী টুইটে এই ভিডিও পোস্ট করার তীব্র নিন্দা করেন৷ তাঁর অনুমতি ছাড়া ভিডিও তোলার জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করে সানিয়া লেখেন, ‘আমার অনুমতি ছাড়া এই ভিডিও তোলা হয়েছে৷ যা অত্যন্ত নিন্দনীয়৷ আমাদের সঙ্গে আমার শিশুও ছিল৷ সুতরাং এই ভিডিও তোলার আগে একবার ভাবা উচিত ছিল৷ হ্যাঁ আমরা ডিনার করেছিলাম৷ এমনকি ম্যাচ হারলেও তাদের ডিনারে যাওয়ার অনুমতি থাকে৷ যতসব মূর্খের দল৷ চেষ্টা করবে পরেরবার ভালো কন্টেন্ট খুঁজতে৷’

সোমবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে জানানো হয়, কোনও পাকিস্তানি ক্রিকেটার কার্ফু টাইম লঙ্ঘন করেনি৷ অর্থাৎ ম্যাঞ্চেস্টারে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে কোনও পাক ক্রিকেটার বাইরে গিয়ে ডিনার করেনি৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা সানিয়া মির্জার সঙ্গে শোয়েব ও ইমামের ডিনারের ভিডিও ম্যাচের দু’দিন আগের বলেও পিসিবি-র তরফে দাবি করা হয়৷

রবিবার ম্যাঞ্চেস্টারে ভারতের কাছে ৮৯ রানে হারে পাকিস্তান৷ অর্থাৎ বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে পাকিস্তানের জয়ের স্বপ্ন এখনও অধরা৷ ৭ বারের সাক্ষাতে প্রতিবারই জিতেছে ভারত৷ রবিবার ম্যাঞ্চেস্টারেও সেই ধারা অব্যাহত রাখে বিরাট অ্যান্ড কোং৷ বৃষ্টি বিঘ্নিত বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৩৬ রান তুলেছিল ভারত৷ দুরন্ত শতরান করেন রোহিত শর্মা৷ তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করে হাফ-সেঞ্চুরির গণ্ডি টপকান লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলি৷

রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ৩৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান তোলার পর বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ হয়ে যায়৷ নতুন করে খেলা শুরু হওয়ার পর ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ৩০২ রানের৷ অর্থাৎ বাকি ৫ ওভারে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৬ রান করতে হত পাকিস্তানকে৷ কিন্তু ৪০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১২ রান তোলে পাকিস্তান৷