স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর : দোল ও হোলি উৎসবে মেতে বারাকপুর কেন্দ্রের তিন প্রতিপক্ষ। দলীয় পতাকা ছাড়াই ভোট ময়দানে অবতীর্ণ প্রার্থীরা চুটিয়ে জন সংযোগ রক্ষা করলেন পছন্দের রং মেখে। বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃতীয় বারের জন্য প্রার্থী হয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী৷ তাঁকে দেখা গেল নৈহাটি ঘোষ পাড়া রোডে দলীয় অনুগামীদের সঙ্গে সবুজ রঙে রাঙা হতে।

শুধু তাই নয়, দলীয় বিধায়ক পার্থ ভৌমিককে সাথে নিয়ে খোল করতালের সাথে তালে তালে নাচতেও দেখা গেলো দীনেশ ত্রিবেদীকে। তিনি নিজে রং মাখলেন, রং মাখালেন৷ এভাবেই বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুটো দিন কাটিয়ে দিলেন তৃণমূল প্রার্থী। সাংবাদিকদের বললেন মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের নিরিখে মানুষ ভোট দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতাবে।

অর্জুন সিংকে অকপটে ফের একবার হোলির শুভেচ্ছা জানান তিনি। অর্জুন সিংয়ের সমালোচনার উত্তরে বললেন,”চোর মাচায়ে শোর”। এই বছরের হোলি উৎসব যথেষ্ট ব্যতিক্রমী অর্জুন সিং এর রাজনৈতিক কেরিয়ারে। মাত্র একদিন আগেই বিজেপির প্রার্থী তালিকায় প্রত্যাশিত ভাবেই বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে তার নাম প্রকাশিত হয়েছে।

অর্জুন সিংয়ের নাম প্রকাশের পরই বৃহস্পতিবার রাতে ভাটপাড়ার মজদুর ভবন এলাকায় কার্যত অকাল দীপাবলি উৎসব পালিত হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী হিসাবে নিজের নাম ঘোষণার পরে অর্জুন সিং সংবাদ মাধ্যমকে তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি জিতছি ২০০ শতাংশ নিশ্চিত আমার জয়। দীনেশ ত্রিবেদী হারছেন মানুষ আমার সঙ্গেই আছেন। আমি ২৪ ঘণ্টা সাধারন মানুষের সঙ্গেই থাকি, ওনার মত আকাশের চাঁদে থাকি না।”

দলীয় প্রার্থী ও অনুগামীদের সঙ্গে হোলি ও দোল খেললেন বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়। লাল আবিরে রাঙা হলেন তিনি৷ এলাকায় ঘুরে ঘুরে জনসংযোগও রক্ষা করলেন গার্গী৷ দলীয় অনুগামীদের সঙ্গে হোলি খেলার ফাঁকেই তার সঙ্গে রাস্তায় দেখা হয়ে যায় নোয়াপাড়া বিধায়ক সুনীল সিংয়ের৷ সেখানেই রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ হলেও দুজনের মধ্যে চলল শুভেচ্ছা বিনিময়।

এদিন গার্গী দেবী বলেন “গত ১০ বছরে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে কোন নতুন শিল্প আনতে পারেন নি বিদায়ী সাংসদ৷ উল্টে বেশ কিছু শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে গত ১০ বছরে। দীনেশ ত্রিবেদীকে মানুষ পরিযায়ী পাখির মত ভোটের সময় দেখতে পায়। অন্য সময় দীনেশ ত্রিবেদীর দেখা পাওয়া যায় না। একজন সাংসদের অনেক কাজ থাকে এটা ঠিক৷ কিন্তু তাই বলে একজন সাংসদের কাছে একজন নাগরিক পৌঁছতে পারবে না, ভোট আসলেই তার দেখা পাওয়া যাবে, এটা মানুষ মেনে নেয় না। আমি মানুষের সঙ্গে মিশছি প্রচারে মানুষের ভালো সাড়া রয়েছে।”

এই ভাবেই বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তিন প্রতিপক্ষ প্রার্থী দোল ও হোলি উৎসবে র মধ্যে দিয়ে জনসংযোগ রক্ষা করলেন তবে কংগ্রেস প্রার্থী নাম ঘোষণা না হওয়ায় এখনো কোনও কংগ্রেস নেতাকে প্রচারে নামতে দেখা যায়নি।