প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: রাজ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই খুলবে সব জুটমিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে খুশি বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা । লকডাউন চলাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে জুটমিলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রস্তুত শ্রমিকরা।

আপাতত রাজ্যে সব জুটমিলগুলিই চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫ শতাংশ শ্রমিকদের দিয়ে লকডাউন চলাকালীন জুটমিলে শুরু হবে উৎপাদন। সপ্তাহের কাজের দিনগুলিতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কাজ পাবেন জুটমিলের সব শ্রমিকরা।

লকডাউন চললেও চটের বস্তার প্যাকেজিংয়ের ঘাটতির কারণে ২৫ শতাংশ শ্রমিকদের নিয়ে রাজ্যের ১৮টি জুটমিল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া সেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে চিঠি দিয়েছে রাজ্য সরকারকে। যদিও রাজ্য সরকার জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র ১৮টি জুটমিলই নয়। জুটমিল খুললে সব জুটমিল একসঙ্গে খুলবে। তা না হলে শ্রমিকদের একাংশের প্রতি অবিচার করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে ঘোষণা করেছেন, দৈনিক ১৫ শতাংশ শ্রমিকদের নিয়ে জুটমিল গুলিতে আপাতত কাজ শুরু হোক । তবে সব শ্রমিকরা যাতে ঘুরে ফিরে কাজ পান সেটা মালিকপক্ষকে দেখার অনুরোধ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আগামী ২০ এপ্রিল থেকে রাজ্যের সব কটি কারখানায় খুব কম সংখ্যক কর্মী নিয়ে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা । তবে জুটমিলে যে শ্রমিকরা যেদিন কাজে যাবেন, সেদিন যেন তাঁরা সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করেন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে ।

এদিকে রাজ্য সরকারের সব জুটমিল খোলার সিদ্ধান্তে খুশি বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা । শ্রমিকদের অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় সরকার জুটমিল খোলা নিয়ে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়নি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে রাজ্য চললে রাজ্যের বেশিরভাগ শ্রমিকরা বঞ্চিত হতেন।’

রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে সব জুটমিলের শ্রমিকরা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কাজ পাবেন। খুশি বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা । বারাকপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রমেশ সাউ জানান, মালিকপক্ষ এই ক’দিনে শ্রমিকদের বেতন বা টাকা দিয়ে আর্থিক সহায়তা করেননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে শ্রমিকরা স্বাভাবতই খুশি৷ ভিন রাজ্য থেকে অসংখ্য শ্রমিক বাংলায় কাজে এসে আটকে পড়েছেন। এবার অন্তত তাঁরা বেঁচে যাবেন।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব