কলকাতা: আজ মঙ্গলবার দেশজুড়ে ব্যাংক ধর্মঘট ডেকেছে একযোগে ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার এবং অল ইন্ডিয়া ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। এদিন ব্যাংক পরিষেবা ব্যহত হবে ৷ এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়বে এটিএমেও বলে আশংকা করা হচ্ছে ৷ ফলে কালীপুজো, দেওয়ালি এবং ধনতেরস আগে অসুবিধায় পড়তে পারেন আম জনতা৷

ব্যাংক সংযুক্তিকরণের প্রতিবাদ সহ একগুচ্ছ ইস্যুতে এই ধর্মঘট ডেকেছে দুই কর্মী ইউনিয়ন৷ অন্যান্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে পরিশোধ না হওয়া ঋণগুলি দ্রুত আদায়ের ব্যবস্থা করা, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, গ্রাহকদের উপর থেকে সার্ভিস চার্জের ভার লাঘব করা, ডিপোজিট বা আমানতের উপর সুদের হার বাড়ানো ইত্যাদি। অর্থাৎ গ্রাহক স্বাচ্ছন্দ্যের দাবি রয়েছে এই ধর্মঘটের পিছনে বলে দাবি করাও হচ্ছে৷

এদিকে ধর্মঘটীদের বক্তব্য, কেন্দ্র যে ভাবে একের পর এক ব্যাংক সংযুক্তিকরণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাতে একদিকে যেমন ব্যাংক পরিষেবা মান কমবে অন্যদিকে ব্যাংক আর্থিক দিক দিয়ে স্বাস্থ্যবান হবে এমনটা বলা যাচ্ছে না৷ তাছাড়া সম্প্রতি সরকার যেভাবে ১০টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে কমিয়ে চারটি বড় ব্যাংকে পরিণত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে এর কোনও সুরাহা হবে না বলেই ধারণা তাঁদের। অন্যদিকে ধাপে ধাপে ডিপোজিটের উপর সুদের হার কমিয়ে একদল সাধারণ মানুষকে বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন ধর্মঘটীরা।

পুজোর কিছুদিন আগে সংযুক্তিকরণের কথা ঘোষণা হয়েছিল। সেই সময় ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হলেও পুজোর আগে গ্রাহকদের সমস্যা ফেলতে চায়নি ব্যাংকের কর্মী বা অফিসারেরা ৷ পুজোর মুখে ধর্মঘটে না গিয়ে অক্টোবরের শেষের দিকে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেন। এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়বে রাষ্ট্রায়ত্ত থেকে বিদেশি এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলিতেও৷ তবে আরবিআইয়ের পাশাপাশি গ্রামীণ ব্যাংক এবং সমবায় ব্যাংকগুলি এই ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। তবে এটিএমগুলির নিরাপত্তা কর্মীরা ব্যাংককর্মী সংগঠনের সদস্য হওয়ায় তাঁরাও এই ধর্মঘটে শামিল হচ্ছে৷ ফলে অধিকাংশ এটিএমের শাটার নামানো থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে ।