শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে তাঁর নন্দীগ্রাম থেকে যেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ত্ব। বিজেপি-র রাজ্য নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক নয় তাঁর দলের সব প্রার্থী এবার পরাজিত হবেন।” এদিকে দিল্লিতে জে পি নাড্ডার বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাজ্যের নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী হতে চেয়েছেন বলে বৈঠক শেষে জানান রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, “বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।” এবার তাই নন্দীগ্রাম নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র। সবার নজর নন্দীগ্রামে

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন নিজেই নন্দীগ্রাম থেকে ঘোষণা করেন তিনিই এবার নন্দীগ্রামের প্রার্থী হবেন, সেদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আধ লাখ ভোট হারাতে না পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর বাবা ও তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী সম্প্রতি বলেছেন, মমতার নন্দীগ্রামে জেদ করে দাঁড়ানো ভুল হয়ে গেলো। তবে তৃণমূলের পূর্ব মেদিনীপুরের নেতা অখিল গিরি বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে ৫০ হাজার ভোট জিতবেন। এই জেলায় শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তৃণমূলে ভাঙ্গন ধরাতে পারেননি।আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য মানুষের কাছে যাবো। মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে চাইছেন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নন্দীগ্রামে জয় নিশ্চিত।”

তবে তৃণমূলের তরফে এই দাবি করা হলেও নন্দীগ্রামের আন্দোলনে শুভেন্দু অধিকারী যে একজন নেতা ও তিনি যে এই কেন্দ্রে একটা ফ্যাক্টর সেটা রাজ্য রাজনৈতিক মহলের ধারণা। শিশির অধিকারীর পরিবার স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবার। সেদিক থেকে অধিকারী পরিবারের এই জেলায় একটা পরিচিতি, জনপ্রিয়তা আছে। কিন্তু নির্বাচনের মুখে তৃণমূল ছেড়ে শিবেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়াকে এই জেলার মানুষ ভালো নজরে দেখছেন না। তাদের বক্তব্য, দল ছাড়লে আগে ছাড়তে পারতেন। কে তাঁকে আটকে রাখতো? তিনি সেটা না করে যা করলেন সেটা বিশ্বাস ভঙ্গের কাজ হয়েছে। তাই এই জেলার মানুষ শুভেন্দু অধিকারীকে ততটা আমল দিচ্ছেন না।
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে শুভেন্দু অধিকারী যে ভাবে বিভিন্ন সভায় বক্তব্য রাখছেন সেটা মানুষ ভালো চোখে নিচ্ছে না। এর পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্র বিরোধী একটা জনমত তৃণমূল নেত্রী তৈরী করতে পেরেছেন। পাশাপাশি তাঁর সরকার রাজ্যের মানুষের জন্য বিনা পয়সায় রেশন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী সহ নানান প্রকল্প করে তৃণমূল দলের ও নিজের একটা জনমুখী মুখ তৈরী করতে পেরেছেন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলেই যে শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি-র কাছে পরাজিত হবেন এটা ততটা বাস্তব নয়। তবে এবার নন্দীগ্রাম আসনটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটু কঠিন, এটা বলছেন রাজনৈতিক মহল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।