দেবনাথ মাইতি, মেদিনীপুর : খাদ্য ও জলের অভাবে গোয়ালতোড়ে জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকছে হরিণ।বাড়ছে দুর্ঘটনা।এই দুর্ঘটনায় শুক্রবার ভোর বেলায় প্রাণ হারালো একটি পূর্ণ বয়স্ক হরিণ৷ এবার এই দুর্ঘটনা রোধে হরিণকে আটকাতে ব্যারিকেড দেওয়ার কথা ভাবছে বন দফতর৷

যতই দিন যাচ্ছে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে ফুটিফাটা একাধিক জলাশয়। ফলে একদিকে যেমন দেখা দিয়েছে জলকষ্ট৷ তেমনই অন্যদিকে জঙ্গলে ক্রমেই বাড়ছে খাদ্যের ঘাটতি। আর এতেই সমস্যায় গোয়ালতোড় ব্লকের জঙ্গল গুলিতে থাকা হরিণেরা। বছর খানেক আগে পরীক্ষামূলক ভাবে মাত্র ১০ টি হরিণ ছাড়া হয় গোয়ালতোড় রেঞ্জে। যেই সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে হরিণের সংখ্যা প্রায় দুই শত ছাড়িয়েছে।

শুধু গোয়ালতোড় রেঞ্জই নয়, জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে গোয়ালতোড়, নয়াবসত, হুমগড়, এমনকি বাঁকুড়ার সারেঙ্গা অবধি অবাধ বিচরণ করে এই হরিণ গুলি। তবে একদিকে সংখ্যা বেড়ে যাওয়া অন্য দিকে খাদ্য ও জলের সংকটে মাঝে মাঝে এগুলি এসে পড়ে লোকালয়ে, আর তার ফলে মাঝে মধ্যেই গাড়ী দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে হরিণ।

বন দফতর সূত্রে খবর, গত দেড় মাসে গোয়ালতোড় বনাঞ্চলে এইভাবে মোট ৪ টি হরিণ মারা গিয়েছে। দুর্ঘটনা রুখতে যে সব জঙ্গলে হরিণ রয়েছে, সেই জঙ্গল গুলিতে ছোট ছোট পুকুর করা হয়েছে অনেক স্থানে। কিন্তু গ্রীষ্ম কালে জল শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এবার ঐ সমস্ত এলাকাগুলিতে ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করারও পরিকল্পনা নিয়েছে বন দফতর। গোয়ালতোড় বনাঞ্চলের রেঞ্জার বিশ্বনাথ ভঞ্জ জানালেন এমনই। ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে উপরতলায়। গ্রিন সিগনাল পেলেই শুরু হবে কাজ। জঙ্গলের হরিণ গুলিকে রক্ষা করতে এখন এই পন্থা অবলম্বনই একমাত্র ভরসা বলে মনে করছে বন দফতর।