লাদাখ : পিছু হটার প্রশ্ন নেই। রবিবারই চায়না ন্যাশনাল ডিফেন্স নিউজের প্রতিবেদন জানিয়েছিল এলএসি জুড়ে পিএলএ বা পিপলস লিবারেশন আর্মি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষিতদের মোতায়েন করেছে ভারতীয় জওয়ানদের মোকাবিলায়। সোমবার বিশেষ সূত্রে খবর, লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে চিনের চোখে চোখ রেখে নিজেদের ঘাতক কম্যান্ডোদের মোতায়েন করেছে ভারত।

রবিবার জানা যায় কমপক্ষে ২০জন মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক চিনের সেনাদের ট্রেনিং দিচ্ছে। তিব্বতে এই প্রশিক্ষণ চলছে। এদেরই লাদাখে মোতায়েন করা হবে। তবে কম যায় না ভারতও। এই তথ্য পাওয়ার পরেই লাদাখের কাছে সীমান্ত জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ঘাতক কম্যান্ডোদের।

সেনা সূত্রে খবর এই ঘাতক কম্যান্ডোরা কর্ণাটকের বেলগামে ৪৩ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয়। ৩৫ কেজির ওজন নিয়ে ৪০ কিমি টানা দৌড়নো এই প্রশিক্ষণের অংশ। শারীরিকভাবে এঁরা অত্যন্ত ফিট। যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় ঘাতক কম্যান্ডো ভারতের সম্পদ। এই ঘাতক কম্যান্ডোরা মোতায়েন থাকলে, সেনাবাহিনীর বাকি অংশের সাহায্য তত লাগে না। এরাই শত্রু নিকেশে পারদর্শী।

অস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি, হাতাহাতি বা সামনাসামনি সংঘর্ষে এরা বিশ্বের যে কোনও সেনাকে হারাতে পারে। এরা মার্শাল আর্টেও পারদর্শী। এক একটি ট্রুপে ২০জন করে কম্যান্ডো থাকেন। থাকেন কম্যান্ডিং ক্যাপ্টেন। এই টিমের মধ্যে ভাগ থাকে। মার্ক ম্যান, লাইট মেশিন গানারস, রেডিও অপারেটর। এর পাশাপাশি থাকে অ্যাসল্ট ট্রুপারস।

বেলগামে যে কম্যান্ডো ট্রেনিং চলে, সেখানে ঘাতক কম্যান্ডোদের ২০ থেকে ৬০ কিমি পর্যন্ত রুকস্যাক নিয়ে দৌড়তে হয়। সঙ্গে থাকে রাইফেল ও ২০ কেজির রুকস্যাক। এঁদের কাছে ইনসাস অ্যাসল্ট রাইফেলস, একেএম অ্যাসল্ট রাইফেলস, পিকা জেনারেল মেশিন গান, এম৪ কার্বাইন, বি অ্যান্ড টি এমপি৯ সাবমেশিন গান, স্নিপার রাইফেল, লাইট মেশিন গানের মতো আগ্নেয়াস্ত্র থাকে।

কোন মিশনে যেতে হচ্ছে, সেই অনুযায়ী অস্ত্র মোতায়েন রাখা হয় এঁদের কাছে। থাকে গ্রেনেড, রকেট লঞ্চার, লেসার টার্গেট ডেসিগনেটর, নাইট ভিশন ইকুইপমেন্ট, ক্লাইম্বিং গিয়ার, দড়ি।

এদিকে রবিবার জানা গিয়েছিল ১৫ই জুন লাদাখে প্রশিক্ষিত পর্বতারোহী ও মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের পাঠিয়েছিল চিন। তারাই উস্কানিমূলক আচরণ করে সংঘর্ষ শুরু করে। ভারত হারায় নিজের ২০ জন সেনা জওয়ানকে।

চিনের স্টেট মিডিয়া জানায় গত ৫০ বছরে এই ধরণের ভয়াবহ সংঘাত ভারত ও চিনের মধ্যে হয়নি। ১৫ই জুন ওই সংঘাত হওয়ার আগে থেকেই ওখানে মোতায়েন করা হয়েছিল মার্শাল আর্ট ফাইটারদের। ছিল চিনা প্রশিক্ষিত পর্বতারোহীরাও।

১৫ই জুন পাঁচটি নতুন মিলিশিয়া ডিভিশন তৈরি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল মাউন্ট এভারেস্ট অলিম্পিক টর্চ রিলে টিমের সদস্যরা। ছিল মার্শাল আর্ট ক্লাবের প্রশিক্ষিত সদস্যরা। তারা ১৫ই জুন লাসাতে ওই এলাকা পরিদর্শনে যায় বলে খবর। চায়না ন্যাশনাল ডিফেন্স নিউজের প্রতিবেদন বলছে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে তিব্বতের রাজধানি লাসায় নতুন করে সেনা দল তৈরি করা হয়।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ