স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: দিব্যি বেঁচে বর্তে রয়েছেন তিনি৷ অথচ সরকারি নথিতে তিনি নাকি মৃত৷ ২০১৮ সালেই নাকি তাঁর মৃত্যু হয়েছে এই দাবি করে যাবতীয় সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠল দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর পুরসভার অন্তর্গত ২নং ওয়ার্ডের শেরপুর এলাকায়৷ ঘটনাটি ঘটেছে এলাকার কৃষক হীরেন্দ্র মোহন দেবের সঙ্গে৷

বাস্তবে তিনি জীবিত থাকলেও কৃষি দফতরের খাতায় তাঁকে মৃত হিসেবে দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পেনশন ও কৃষি বিভাগের সমস্ত সুযোগ সুবিধাও।

অভিযোগ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষক ভাতা সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছিলেন হীরেন্দ্র মোহন। তার পর থেকে আচমকাই সব বন্ধ হয়ে যায়। অসহায় ওই বৃদ্ধ কৃষক বিষয়টি নিয়ে জেলা কৃষি দফতরে মাথা ঠুকলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সম্প্রতি কৃষি দফতরে ফের খোঁজ নিতে গিয়ে চমকে ওঠার মতো তথ্য সামনে আসে৷

তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তাঁকে মৃত উল্লেখ করে দেখানো রয়েছে। অভিযোগ এলাকা সার্ভে করার সময় দফতরের কর্মী আধিকারিকরা বৃদ্ধ হীরেন্দ্র মোহন দেবকে বাড়িতে না পেয়ে, তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যে কারণে সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত তিনি বলে অভিযোগ। বৃদ্ধের পাশাপাশি প্রতিবেশিরাও ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে হীরেন্দ্র মোহন দেব জানিয়েছেন যে বহুদিন আগে আবেদন করার পর তাঁর কৃষক পেনশন বরাদ্দ হয়েছিল। সম্বল বলতে সামান্য জমিতে চাষাবাদ ও পেনশনের টাকা দিয়ে কোন মতে দিন চলে যেত। কিন্তু গত বছর মার্চ থেকে হঠাতই তা বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ করে এও জানান যে গত বছর অফিস থেকে কয়েকজন এলাকায় সার্ভে করতে গেলে সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িতে না পেয়ে অফিসের ঐ লোকেরা তাঁকে মৃত বলে খাতায় উল্লেখ করেন।

দীর্ঘ কয়েক মাস থেকে পেনশন না পেয়ে অফিসে খোঁজ নিতে গেলে তাকে জানানো হয় যে তিনি নাকি বহুদিন আগেই মারা গিয়েছেন। তাই মৃত ব্যাক্তিকে সরকারি কোন সুযোগসুবিধা দেবার নিয়ম নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয় দফতরের তরফে৷

মহকুমা কৃষি আধিকারিক তাপস দাস জানিয়েছেন যে এমনটা হওয়ার কথা নয়। তবে নিয়মানুসারে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পেনশনভোগীকে দফতরে লাইভ সার্টিফিকেট জমা করতে হয়। পাশাপাশি কৃষক হিসেবে সরকারি অন্য সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে এলাকায় গিয়ে সার্ভের নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীকে বাড়িতে না পেলে মৃত দেখানোর অভিযোগের তদন্ত করা হবে। সেই সঙ্গে নথিপত্র যাচাই করে তাঁকে দ্রুত সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা তিনি করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন কৃষি আধিকারিক।