সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : স্ক্রাব টাইফাসের হাত থেকে চিড়িয়াখানার নতুন পশুদের বাঁচাতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এমনিতেই নতুন পরিবেশ থেকে এই শহরে এসে মানাতে সময় লাগছে। এর মধ্যেই শহরের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্ক্রাব টাইফাসের প্রাণী। এই প্রাণীদের সাধারণত ঘাসের জমিতেই বেশী পাওয়া যায় । সেটাই চিন্তিত করেছে কর্তৃপক্ষকে। তাই নতুন অতিথিদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গুর পাশাপাশি রাজ্যের নতুন আতঙ্ক স্ক্রাব টাইফাসও। এই রোগ থেকে চিড়িয়াখানায় আসা নতুন ১৪ প্রাণীকে বাঁচাতে লড়ছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। ১৪ টি প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ২ টি সিংহ, ৪টি ক্যাঙ্গারু, ৬ টি মাউস ডিয়ার ও দুটি জাগুয়ার। এগুলির মধ্যে সিংহ , জাগুয়ার ও মাউস ডিয়ার আনা হয়েছে হায়দরাবাদের চিড়িয়াখানা থেকে। ক্যাঙ্গারু এসেছে সুদুর জাপান থেকে। প্রত্যেকেই অন্য পরিবেশে বড় হয়েছে। নতুন পরিবেশে মানাতে ওদের এখনও দর্শকদের সামনেই আনা হয়নি। সেখানে শহরে পরিবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে ডেঙ্গু, স্ক্রাব টাইফাসের মতো মারাত্মক রোগের ভাইরাস। ডেঙ্গু নিয়ে বিশেষ আতঙ্কিত না হলেও চিড়িয়াখানা ভয় রয়েছে স্ক্রাব টাইফাসকে নিয়ে।

আরও পড়ুন :রবি ঠাকুরের অনুপ্রেরণায় মরণোত্তর চক্ষু দান শিল্পীর

কারণ ঘাসের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় স্ক্রাব টাইফাস ছড়ানো প্রাণী মাইট। মাইট নামের ক্ষুদ্রকায় ওই প্রাণী কামড়ালেই ব্যাকটেরিয়াঘটিত এই অসুখ হয়। যার জন্য দায়ী ওরিয়েনসিয়া শুশুগামুসি নামের একটি ব্যাক্টেরিয়া। মাইট কোনও পোকা নয়। আকারে মাইট ০.২মিলিমিটার থেকে ০.৪ মিলিমিটার মাপের হয়। একমাত্র মাইটের লার্ভা থেকে এই রোগ ছড়ায়। উত্তরবঙ্গের মিরিক এবং সংলগ্ন তরাই অঞ্চলের জঙ্গলে এই ধরনের মাইটের খোঁজ পাওয়া যায়। গত বছর থেকে শহরের বুকে এই নতুন আতঙ্কের আগমন ঘটে। চিকিৎসকদের দাবি কোনও বাহকের মাধ্যমেই কলকাতায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।

এখানেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিড়িয়াখানার। কারণ ডেঙ্গু জুনোটিক রোগ নয়। অর্থাৎ পশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। কিন্তু স্ক্রাব টাইফাস জুনোটিক রোগ অর্থাৎ পশুদের থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ঘাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মাইট নতুন পশুদের কামড়ালে বিপদ হতেই পারে। একজনকে কামড়ালে অন্য প্রাণীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও প্রবল। কর্তৃপক্ষ বিশেষ চাপে রয়েছে মাউস ডিয়ার , ক্যাঙ্গারু ও জাগুয়ারকে নিয়ে। কারণ এই তিন প্রাণীই রয়েছে ঘাসের এনক্লোলজারের মধ্যে। চিড়িয়াখানার পশুদের চিকিৎসক শিবাজি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “এই রোগটা জুনোটিক বলেই অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। যেকোনো মুহূর্তে তা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে যাতে এদের থেকে বাঁচবার ব্যবস্থা করছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।”

চিড়িয়াখানার প্রধান, আশিস কুমার সামন্ত জানিয়েছেন, “ক্যাঙ্গারু , হরিণ, জাগুয়ার এদের উপর বিশেষ নজর রয়েছে আমাদের। কিছুদিন অন্তর ঘাস ছাঁটা হচ্ছে । ঘাস বড় হলেই মাইট সেখানে বাসা গেড়ে বসতে পারে। সেই পরিস্থিতিতেই আমরা যেতে দিচ্ছি না।” এছাড়া প্রত্যেক খাঁচার চারিদিকে প্রচুর ব্লিচিং ও চুন ছড়ানো হচ্ছে। এইসব গন্ধে রোগ সৃষ্টিকারী পতঙ্গ বা মাইট জাতীয় কোনও প্রাণী টিকতে পারে না বলে দাবি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের। মঙ্গলবারেই মশার লার্ভা মিলেছে চিড়িয়াখানা থেকে। তাই আরও বেশী সতর্ক হওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।