লখনউ: আলিগড়ের শিশু মৃত্যু ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ৷ দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব সকলে৷ এরই মাঝে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ আলিগড় কাণ্ডে এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্ষণের অভিযোগ৷ পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ঘটনা৷ নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল জাহিদ নামে ওই অভিযুক্ত৷ এক আত্মীয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পায় সে৷

গত রবিবার জঞ্জালের ভ্যাট থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় এক শিশু কন্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়৷ ৩০ মে থেকে নিখোঁজ ছিল মেয়েটি৷ রবিবার ওই ভ্যাট থেকে রাস্তার কুকুরগুলি মৃতদেহটি টানতে টানতে রাস্তায় নিয়ে আসে৷ যখন মৃতদেহ উদ্ধার হয় তখন পচে গলে গিয়েছিল৷ হাত-পা ছিল দোমড়ানো-মোচড়ানো৷

পরিবারের তরফে যে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ এছাড়া চোখ খুবলে নেওয়ার যে দাবি পরিবারের তরফে করা হয়েছিল সেটাও ভিত্তিহীন বলে জানায় তদন্তকারীরা৷ এই ঘটনায় পুলিশ প্রতিবেশী পরিবারের জাহিদ ও আসলাম নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে৷ এরপরে শনিবার আরও ২ যুবককে আটক করে পুলিশ৷

এদিকে আলিগড়ের আইনজীবীদের অ্যাসোসিয়েশন কোনওভাবেই অভিযুক্তদের হয়ে মামলা লড়তে চাইছেন না৷ তাঁদের দাবি, অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেক সদস্য মৃতার পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন৷ কোনওভাবেই অভিযুক্তদের হয়ে সওয়াল করার প্রশ্নই উঠছে না৷ যদি বাইরে কোনও আইনজীবীকে নিয়ে আসা হয়, তাঁকেও লড়তে দেওয়া হবে না৷

দুই প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ ও আসলাম শুক্রবার রাতেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে৷ শনিবার সকালে তাদেরই ভাই মেহেন্দি ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ মেহেন্দির স্ত্রীর ওড়না মৃত শিশুর গলায় প্যাঁচানো ছিল বলে জানা গিয়েছে৷ পঞ্চম অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ৷

খুন এতটাই নৃশংস পুলিশ এখন এনএসএ বা জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের চিন্তা করছে৷ তা যদি হয় তাহলে এই প্রথম শিশু মৃত্যু ঘটনায় এনএসএ প্রয়োগ করা হবে৷ এই আইনে এফআইএর ছাড়া গ্রেফতারের সংস্থান রয়েছে৷ পাশাপাশি গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজিরার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই৷ ইতিমধ্যে পুলিশ শিশু মৃত্যুর তদন্তে সিট গঠন করেছে৷