মুম্বই : দীর্ঘ সাত বছর ধরে ‘কলিং সেহমত’ বইটি লিখেছিলেন হরিন্দর সিক্কা৷ দু’মলাটে লেখক বন্দি করেছিলেন অজানা এক সেনানীর সাহসিকতার গোপন কথা৷ নাম বদলে চরিত্রের নাম দেন ‘সেহমত’৷ আজ তাঁর গল্প লোকের মুখে-মুখে। কিন্তু এখনও আড়ালে বীর সেই সেনানী।

১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধের সময় ভারতের হয়ে চরবৃত্তি করেন এক মুসলিম যুবতী৷ বাবার সিদ্ধান্তে পাল্টে যায়, অনভিজ্ঞ এক কিশোরী মন। সে বেঁছে নেন এমন এক জীবন যা গোটাটাই মিথ্যে। জীবনকে বাজি রেখে বিয়ে করেন এক পাকিস্তানি সেনানায়কে। শত্রুর ঘাঁটিতে গিয়ে বের করে এনেছিলেন গোপন তথ্য। যা প্রাণ বাঁচিয়েছিল হাজারও ভারতীয়র।

কিন্তু এসব কথা ছিল গোপনে। কারণ সে এমন সেনা যে শহিদ তো হবে, কিন্তু মৃত্যুর পর জুটবে না তিরঙ্গা। সে দেশের জন্য সব কিছু করবে। কিন্তু দেশ তাঁর জন্য কিছু করবে না। কিন্তু নিয়তির হাত ধরে হরিন্দর সিক্কা একদিন জানতে পারেন সহমত-এর কথা। তারপর পাতায় পাতায় ফুটে ওঠে তাঁর জীবনের কথা। যা হাতে এসে পরে মেঘনা গুলজারের। তৈরি হয় ‘রাজি’। যা মুক্তির সঙ্গে বক্স-অফিসে সুপার-সুপারহিট।

আরও পড়ুন: বিয়ের মরশুমে, বিবাহ বিচ্ছেদের পথে বলিপাড়ায় এই তারকা জুটি!

সেহমতের কাহিনিতে মুগ্ধ সবাই। আর এই মুগ্ধতা থেকে জন্মেছে রিয়েল সহমতকে জানান, চেনার আগ্রহ। তাই এই গল্পের লেখক সাধারণ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খুব শীঘ্রই তিনি আসল সহমতের নাম ও ছবি প্রকাশ্যে আনবেন। হরিন্দর সিক্কার এই ঘোষনায় বেঁকে বসেছেন ‘সেহমত’র বেশ কয়েকজন কাছের মানুষরা৷ যেমন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব, সহকারী৷ তবে তাঁদের আপত্তির থেকেও এখন নজড় ঘুরছে আরেকজনের আপত্তির দিকে৷ সেই ব্যক্তি কিছুতেই চান না ‘সেহমত’র ছবি কিংবা আসল পরিচয় আমজনতার বা কারও সামনে আসুক৷ কে তিনি? ‘সেহমত’র প্রথম প্রেম! ‘অভিনব’ নামেই লেখক সেই ব্যক্তিকে সম্বোধন করেছেন৷

দিল্লির বাসিন্দা ‘অভিনব’৷ এখন তাঁর বয়স ষাটোর্ধ্ব৷ দিল্লি ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালিন সহমতের এই ‘টল, ইয়ং অ্যাথলিট’, ‘অভিনব’কে বেশ পছন্দ ছিল৷ ‘কলিং সেহমত’এ এই ব্যক্তির প্রসঙ্গে খানিক তথ্য রয়েছে ঠিকই কিন্তু তেমন ডিটেলে নয়৷

আরও পড়ুন: বাবার সঙ্গেই পর্দায় অভিষেক শ্বেতার

তবে আসল ‘সেহমত’র মৃত্যুর পর ‘অভিনব’র সঙ্গে লেখকের ফের সাক্ষাৎ হয়৷ সে প্রসঙ্গে লেখক এক সাক্ষাৎকারে জানান, “এই ব্যক্তি এখন দিল্লিতে ওয়েল-সেটেলড৷ ওঁনার ধারণা আমি ওঁনার জীবনে অনধিকার প্রবেশ করছি৷ তাঁর এবং ‘সেহমত’র সম্বন্ধে কিছু জানা বা ‘সেহমত’র পরিচয় রিভিল করা আমার উচিত হচ্ছে না৷ কিন্তু আমি ওঁনাকে কেবল কয়েকটা প্রশ্ন করেছি৷ ‘সেহমত’র সম্বন্ধে কারও কী জানান অধিকার নেই? তিনি দেশের গর্ব৷ পাব্লিক ফিগার৷ তাঁর বীরত্বের সম্বন্ধে সকলের জানা উচিত৷”

তবে এরপরও তা মানতে নারাজ ‘অভিনব’৷ তিনি কেবল এইটুকুই জানান যে ‘সেহমত’ কখনও তাঁর কাছে ফিরে আসেনি৷ তবে তিনি ‘সেহমত’র সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন৷ দেশে ফেরা পর সেহমতকে বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়৷ যা তাঁর হয়ে লড়েছিলেন ‘অভিনব’৷ এর বেশি কিছুই বলেননি তিনি, তবুও কোথাও যেন আশার কিরণ দেখতে পাচ্ছেন লেখক হরিন্দর৷ তবে শুধু ‘অভিনব’ নয়, জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহও নারাজ ‘সেহমত’র আসল পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে৷

কিন্তু এতকিছুর পরও হাল ছাড়ছেন নারাজ লেখক৷ এখনও তিনি আশা রেখেছেন সকলের সহমতি পেলে তিনি জুন নাগাদ ‘সেহমত’র ছবি সহ অন্যান্য বহু তথ্য প্রকাশ্যে আনবেন৷