গুয়াহাটি: সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে অসমে পরপর গ্রেনেড হামলা। এই ধারাবাহিক বিস্ফোরণে পুরো উত্তর পূর্বাঞ্চল সন্ত্রস্ত। প্রশ্ন উঠছে এই হামলার নেপথ্যে কারা ?

প্রাথমিকভাবে অসম স্বরাষ্ট্র দফতর ও পুলিশের সন্দেহ নাশকতায় জড়িত আলফা ( স্বাধীনতা) সংগঠন।
তবে আলোচনায় থাকছে, অপর সশস্ত্র বোড়ো সংগঠন এন ডি এফ বি ( সংবিজিৎ)। এরাও বারে বারে রক্তাক্ত করেছে অসমকে।

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগেই বোড়ো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অন্যতম নেতা রঞ্জন দৈমারির সঙ্গে শান্তি আলোচনার পথ প্রস্তুত বলে জানানো হয়। সেই মতো দৈমারি-কে সরকারের সামনে হাজির করানো হবে বলেও জানানো হয়। তার পরেই বিস্ফোরণে চিন্তিত অসম স্বরাষ্ট্র দফতর।

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড বা এনডিএফবি সংগঠনের প্রথম যুগের নেতা রঞ্জন দৈমারি। পরে সেই সংগঠনে চিড় ধরে। নতুন করে তৈরি হয় এনডিএফবি(সংবিজিৎ)। নেতা আই কে সংবিজিৎ।

বোড়ো জাতির কেউ না হয়েও স্বশাসিত বোড়োল্যান্ড আন্দোলনের ‘রক্তচোষা বাদুড়’ হিসেবেই কুখ্যাত সংবিজিৎ।

অন্যদিকে আলফা স্বাধীনতা ভারত সরকারে সঙ্গে কোনওরকম নরম আলোচনা বিরোধী। এর নেতা পরেশ বড়ুয়া। বারে বারে তাঁর নির্দেশে রক্তাক্ত হয়েছে অসম। নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন আত্মগেপণকারী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা।

পরেশ বড়ুয়ার মতোই বোড়ো জঙ্গি নেতা আই কে সংবিজিৎ সিএএ বিরোধী। তার হুমকি, জাতীয় নাগরিকপঞ্জীকরণে কোনও বোড়োর নাম বাতিল হলে রক্তাক্ত করা হবে অসমকে।

মূলত আলফা (স্বা.) ও এনডিএফবি -সংবিজিৎ গোষ্ঠী যে নাশকতা ঘটাতে পারে তার আশঙ্কা ছিলই। তবে অসম সরকার সাধারণতন্ত্র দিবসের আগেই সাম্প্রতিক সময়ে সর্বাধিক ৬৪৪ জন জঙ্গি আত্মসমর্পণের নজির তৈরি করে।

মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, দ্রুত অসমকে আরও জঙ্গি মুক্ত করার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। বৃহত্তম এই জঙ্গি আত্মসমর্পণের কয়েক ঘণ্টা পরেই ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কাঁপল অসম।

অসম পুলিশ জানিয়েছে, এবারও ২৬ জানুয়ারি উত্তর পূর্ব ভারতে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কালো দিন পালন করছে। সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হতেই অসমের তিন জায়গায় নাশকতার চেষ্টা হয়। মাত্র ডিব্রুগড়ে গুরুদ্বারের কাছে জঙ্গিরা প্রথম বিস্ফোরণ ঘটায়।

এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও দুটি জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসে। চারাইডিও এবং দুলিয়াজানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অসমজুড়ে।

জানা যাচ্ছে, জঙ্গিরা গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।