কলকাতা: ম্যাচ শেষের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বলছিলেন বাঙালির চিরন্তন আবেগের ডার্বিতে আদপে স্পেনের বুল ফাইট দেখল কলকাতা ময়দান। যে বুল ফাইটে হিরো হয়ে উঠতে পারতেন দু’দলের যে কেউই। আবার কেউ বনে যেতে পারতেন খলনায়ক। কিন্তু না, পারদ চড়িয়েও হাউসফুল যুবভারতীতে মরশুমের প্রথম কলকাতা ডার্বি রইল নিষ্ফলা।

গত মরশুমে জোড়া ডার্বি জয়ের পর হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে তাল ঠুকছিলেন লাল-হলুদ কোচ আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজ। অন্যদিকে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলে অভিষেকেই ডার্বি জয়ের যাবতীয় ঘুঁটি সাজিয়ে রেখেছিলেন বাগান কোচ কিবু ভিকুনা। না লক্ষ্যে সফল হতে পারলেন না কেউই। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে খেলা মাঝে মাঝে উপভোগ্য হলেও মরশুমের প্রথম বড় ম্যাচে দুই দলের দুই স্প্যানিশ মগজাস্ত্র একটু বেশিই রক্ষণাত্মক হয়ে গেলেন নয় কী? প্রশ্ন থাকছেই।

দারুণভাবে গোলের মধ্যে থাকা দলের দুই আপফ্রন্ট ফুটবলারই নেই বড় ম্যাচের প্রথম একাদশে। হাইমে কোলাডো ও বিদ্যাসাগর সিংয়ের প্রথম একাদশে না থাকা নিয়ে যখন প্রশ্ন তুলছেন সমর্থকেরা তখন লাল-হলুদের স্প্যানিশ হেড কোচ কিন্তু ইতিবাচক যুক্তিই দিলেন। কোলাডো গোল পেলেও তিনি পজিটিভ স্ট্রাইকার নন। কিন্তু আলেজান্দ্রো চেয়েছিলেন ম্যাচটা জিততে। তাই শুরু থেকেই দুই পজিটিভ স্ট্রাইকারে (মার্কোস, রোনাল্ডো) দলকে মাঠে নামিয়েছিলেন তিনি, জানালেন আলেজান্দ্রো। পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গল কোচের কথায় মার্কোসকে না নামালেও আপনারা হয়তো প্রশ্ন তুলতেন।

যাইহোক ম্যাচ না জিততে পারলেও দলের খেলায় সন্তুষ্ট আলেজান্দ্রো বলেন, ‘সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল কিন্তু ম্যাচটা খুবই তাড়াতাড়ি চলে এসেছে। তবে আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি। এমন ম্যাচে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছুই থাকে।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘দু’দলই জয়ের সুযোগ পেয়েছিল। আমার মনে হয় আমরা বেশিই সুযোগ তৈরি করেছিলাম। প্রথমার্ধে ম্যাচের রাশ কিছুটা ওদের হাতে ছিল। তবে মাঝমাঠে একজন বেশি ফুটবলারকে নিয়েও ওরা আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি।’

অন্যদিকে ম্যাচ জিততে না পেরে হতাশ অ্যান্তোনিও কিবু ভিকুনা। মোহনবাগান কোচের কথায়, ‘সমর্থকরা একটা দুর্দান্ত ম্যাচের সাক্ষী থেকেছে। তবে আমি হতাশ কারন আমি ম্যাচটা জিততে চেয়েছিলাম। আমরা যা খেলেছি তাতে আমি খুশি তবে ম্যাচের ফল আমাদের পক্ষে ১-০ হওয়া উচিৎ ছিল। সুহের অথবা রোমারিওর তিনকাঠিতে বল রাখা উচিৎ ছিল।’ পাশাপাশি চামোরোকে বসিয়ে এক স্ট্রাইকারে (ভিপি সুহের) খেলানোর ব্যাখ্যাও দেন বাগানের স্প্যানিশ কোচ। তাঁর কথায়, ‘তিন দিন অন্তর আমাদের ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। চামোরো প্রচুর ম্যাচ খেলেছে বিগত কয়েকদিনে। তাই এই ম্যাচে আমাদের স্ট্র্যাটেজিই ছিল এক স্ট্রাইকারে মাঠে নামার।’

তবে যার উপর ভরসা করে মাঠে নামা সেই সুহের গোলের সুযোগ নষ্ট করলেও বকাবকিতে রাজি নন কিবু। বরং কেরল স্ট্রাইকারের পাশে দাঁড়িয়ে বাগান কোচ জানাচ্ছেন, ‘ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডারদের সারা ম্যাচেই ব্যতিব্যস্ত রেখেছিল ও। একজন স্ট্রাইকারের আসল কাজ অবশ্যই গোল করা কিন্তু তবুও সুহের আজ দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে।’