স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢোকার পরে নিরাপদে ‘আত্মগোপন’ করে থাকার জন্য নিজেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র বলে পরিচয় দিত আনসারুল্লা বাংলা টিমের অন্যতম মাথা সামসাদ৷ ধৃতকে জেরা করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) জানতে পেরেছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করার পরে হায়দরাবাদে হার্ডওয়্যার-নেটওয়ার্কিংয়ের ডিপ্লোমা কোর্স করেছিল সামসাদ৷ তার কারণ হিসেবে সামসাদ দাবি করেছে, অন্য কোনও পরিচয় নিয়ে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে সন্দেহের চোখে দেখতে পারে৷ কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকায় সেই সমস্যায় পড়তে হয়নি৷ তাই সে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার শিখেছিল৷ সেখানেই তার সঙ্গী হিসেবে থাকত রিয়াজুল ইসলামও৷

এসটিএফ সূত্রে খবর, বাংলাদেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করা সামসাদ উচ্চশিক্ষিত হওয়ায় তার ভারতে থাকতে ভাষাগত সমস্যা হয়নি৷ ইংরেজিতে সাবলিলভাবে কথা বলার পাশাপাশি হিন্দিও জানত৷ ফলে কখনও কারও সন্দেহে চোখে পড়তে হয়নি৷ হায়দরাবাদেই ভুয়ো আধারও কার্ড-সহ অন্যান্য পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল৷

লালবাজার সূত্রে খবর, ২০১৬ সালে পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে চোরাপথে ভারতে ঢুকেছিল সামসাদ৷ তারপর সেখান থেকে সোজা কর্ণাটকের বেলগাওতে গিয়ে গা ঢাকা দেয়৷ সেখানে পরিচিত মহলে কিছুদিন কাটানোর পরে হায়দরাবাদে চলে যায়৷ সেখানেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হিসেবে পাকাপাকিভাবে থাকা শুরু করে৷ এসটিএফ মনে করছে, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ায় হায়দরাবাদে ছাত্রদের মধ্যে ভালভাবে মিশে গিয়েছিল সামসাদ৷ ফলে সেখানে বেশ কিছু ছাত্রকে নিজের সংগঠন সম্পর্কে মগজধোলাই করেছিল৷ সে ব্যাপারে তাকে জেরা করা শুরু হয়েছে৷ হায়দরাবাদে যাদের সঙ্গে সামসাদের বেশি মেলামেশা ছিল তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা হচ্ছে৷

পুলিশ জানতে পেরেছে, বিস্ফোরক তৈরিতে দক্ষ সামসাদের থেকে একই কাজ শিখেছিল রিয়াজুল৷ তবে তারা দু’জনই বাংলাদেশের আনসারুল্লা বাংলা টিমের ‘অ্যাকশন গ্রুপের’ সদস্য ছিল৷ অর্থাৎ তারা যে কোনও জঙ্গি কার্য়কলাপকে বাস্তব রূপ দেওয়ার কাজে দক্ষ ছিল৷ সেই থেকেই উদ্বেগ বেড়েছে কলকাতা পুলিশের৷ কারণ তাদের কাছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নাম লেখা বেশকিছু কাগজ উদ্ধার হয়েছে৷ মাসখানেক আগে কলকাতায় এসে তারা সেই জায়গাগুলি রেইকি করে এসেছিল বলেই পুলিশ জেনেছে৷ কেন সেই জায়গায় রেইকি করা হয়েছিল? শহরে কোথাও কোনও জঙ্গি কার্যকলাপের ছক ছিল কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ৷

এদিকে, বুধবার ধৃত সামসাদ, রিয়াজুল এবং মনোতোষ দে’কে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলে এসটিএফ৷ ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন৷ লালবাজার সূত্রের খবর, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন ধৃতদের কলকাতায় বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হতে পারে৷ শহরে আসার পরে কোথায় কোথায় গা ঢাকা দিয়েছিল তা জানার জন্যই তাদের নিয়ে সেই জায়গাগুলিতে যাওয়া হবে৷

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও