আইজল: পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি উত্তর পূর্ব ভারতেও জঙ্গি জাল ছড়িয়ে দিয়েছে আল কায়েদা৷ জঙ্গি শিবির তৈরি করে সেখানে উগ্র রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে৷ মায়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা মিজোরাম ও মনিপুরে চলছে সেইসব শিবির৷ জেরায় এমনই কবুল করেছে ধৃত আল কায়েদা জঙ্গি৷

গত সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব দিল্লি থেকে ধরা পড়ে ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত আল কায়েদা জঙ্গি সামিউন রহমান ওরফে রাজু ভাই৷ তদন্তে উঠে এসেছে, সামিউন রহমান ২০১৩ সাল থেকে আল কায়েদা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত৷ সে ইতিমধ্যে মরক্কো, মৌরিতানিয়া, তুরস্ক, সিরিয়া, বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন জঙ্গি ঘাঁটি ঘুরে রিপোর্ট তৈরি করেছে৷

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গোয়েন্দা জালে ধরা পড়েছে একের পর এক বাংলাদেশি জঙ্গি৷ তারা আনসারুল্লা বাংলা টিমের সদস্য৷ এই সংগঠনটি আল কায়েদা ঘনিষ্ঠ৷ বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি জাল ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন গোয়েন্দা বিভাগ৷

দিল্লিতে ধৃত জঙ্গি সামিউন রহমানের স্বীকারোক্তি, মায়ানমার থেকে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ছড়িয়েছে আল কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা৷ সূত্রের খবর, বাংলাদেশে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে মরিয়া আল কায়েদা৷ এর জন্য সামিউন রহমান ঘুরে এসেছিল রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঢাকা৷ জেরায় এই জঙ্গি কবুল করেছে, বেশকিছু তরুণ ও কিশোরকে ইতিমধ্যেই জঙ্গি শিবিরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷

পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া জেএমবি ডেরায় বিশাল অভিযান

পরে সে আরও জানায়, উত্তর পূর্ব ভারতের মিজোরাম ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় চলছে এমনই জঙ্গি শিবির৷ সেখানে ট্রেনিং নিচ্ছে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কয়েকজন৷ একইভাবে মণিপুর-মায়ানমার সীমান্তেও চলছে আল কায়েদার শিবির৷

আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে রীতিমতো চলছে জঙ্গি শিবির৷ এমনই তথ্য দিয়েছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ তাঁর মন্তব্যের পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক চিন্তিত হয়ে পড়ে৷ পরে বাংলাদেশ সরকার জানিয়ে দেয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় যে কোনওরকম জঙ্গি তৎপরতা বানচাল করা হবে৷ সেই মতো একের পর এক শিবির ধংস করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: ধৃত কেএলও জঙ্গিদের বয়ান ‘বাংলাদেশে বিশেষ জঙ্গি শিবির চলছে’