গুয়াহাটি: ম্যাচের আগে ইগর স্টিম্যাচ জানিয়েছিলেন ওমান শক্ত প্রতিপক্ষ হলেও আমরা অঘটন ঘটাতে পারি। গুয়াহাটিতে এদিন প্রথমার্ধের ফুটবল দেখে অঘটন নয়, বরং মনে হচ্ছিল এই ম্যাচ যোগ্য দল হিসেবেই জেতা উচিৎ সুনীল ছেত্রীদের। কিন্তু প্রথমার্ধে অধিনায়কের গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না। শেষ দশ মিনিটে ভারতীয় রক্ষণকে মাটি ধরিয়ে নায়ক বনে গেলেন ওমানের আল মান্ধার। আর তাঁর জোড়া গোলেই ফের স্বপ্নভঙ্গ সুনীলদের। ওমানের কাছে ১-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপের যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বের প্রথম ম্যাচে শূন্য হাতেই ফিরতে হল ব্লু-টাইগার্সদের।

গুয়াহাটিতে এদিন প্রথমার্ধে আধিপত্য নিয়ে ফুটবল খেলল মেন ইন ব্লু। শুধু গোল করাই নয়, পাশাপাশি দাপুটে ফুটবলে তৈরি হল একাধিক সুযোগ। ক্রসবার বাধা না হয়ে দাঁড়ালে কিংবা সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে পারলে প্রথমার্ধে আরও বেশি গোলে এগিয়ে যেতে পারত ব্লু-টাইগার্সরা। একটা সময় বিপক্ষ ওমান রক্ষণে কার্যত নাভিশ্বাস তুলে দিলেন আশিক কুর্নিয়ান-উদান্তা সিংরা। ১৫ মিনিটেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন উদান্তা। যদিও এযাত্রায় বিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বেঙ্গালুরু এফসি উইঙ্গারের নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর ২৪ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন দলনায়ক সুনীল। সেটপিস থেকে গোলটির পিছনে ছিল যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার ছাপ।

ব্র্যান্ডন ফার্নান্ডেজের নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে ওমান রক্ষণের নজর এড়িয়ে বাঁ-পায়ের দুরন্ত শটে দলকে লিড এনে দেন বেঙ্গালুরু এফসি স্ট্রাইকার। এরপর বেশ কিছুটা সময় ভারতীয় আক্রমণভাগ বিপক্ষ রক্ষণকে চাপে রাখলেও প্রথমার্ধের শেষে কিছুটা ম্যাচে ফেরে ওমান। ৪৩ মিনিটে একটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত হয় গুরপ্রীত সান্ধুর দস্তানায়। আল মুখাইনির ক্রস থেকে মুবারকের নেওয়া জোরালো হেড হ্যান্ডশেকিং দূরত্ব থেকে বাঁচিয়ে দেন বেঙ্গালুরু গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে এক গোলের লিড নিয়েই লকাররুমে ফেরে স্টিম্যাচের দল।

এগিয়ে থেকেও ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক হওয়ার পরিবর্তে দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণের মোড়কে ঢুকে যায় ব্লু-টাইগার্স। যার সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে ওঠে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে ভারতের চেয়ে ২২ ধাপ এগিয়ে থাকা ওমান। প্রথমার্ধে দুরন্ত ফুটবল খেলা অনিরুদ্ধ থাপা দ্বিতীয়ার্ধে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন একটি ক্ষেত্রে। আত্মঘাতী গোলে কার্যত খলনায়ক বনে যাচ্ছিলেন তিনি। সেযাত্রায় রক্ষা পেলেও রক্ষণের খোলসে ঢুকে যাওয়া ভারতীয় ডিফেন্সকে শেষ দশ মিনিটে নাড়িয়ে দিয়ে যান ওমান স্ট্রাইকার আল মান্ধার।

শেষ মুহূর্তে ডিফেন্সের গলদ ভারতীয় দলে বারবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে। এদিনও সেই রোগ থেকে মুক্তি পেল না দল। ৮২ মিনিটে দুর্দান্ত অনুধাবন করে বক্সের মধ্যে একটি লং বল রিসিভ করেন আল মান্ধার। এরপর ডান পায়ের শটে গুরপ্রীতকে ম্যাচে প্রথমবারের জন্য পরাস্ত করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সেই অর্থে কোনও সুযোগই তৈরি করতে পারেনি ভারতীয় দল। উলটে ম্যাচের শেষ মিনিটে হতাশা বাড়িয়ে জয়সূচক গোলটি করে যান সেই মান্ধার। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ঝিঙ্গনকে ড্রিবলে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর শরীর শূন্যে ছুঁড়ে দিয়েও কোনাকুনি শটে মান্ধারের চোখধাঁধাঁনো প্লেসিংয়ের নাগাল পাননি গুরপ্রীত।