ছবি-শশী ঘোষ

অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লাতৃতীয়া অর্থাৎ শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এদিনটি একটি পবিত্র  তিথি রূপে পালন করা হয়। অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যার ক্ষয় হয় না। বৈদিক মতে এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। অক্ষয় তৃতীয়া বাঙালির পঞ্জিকায় একটা বিশেষ  দিন রূপে অনেক কাল থেকেই  জায়গা পেয়েছে ৷ অনেক শুভ কাজ করার জন্য বাঙালি বেছে নিত এই দিনটাকে৷ তা ছাড়া পয়লা বৈশাখের পাশাপাশি বাঙালির একাংশ হালখাতার অনুষ্ঠান করে থাকে এই অক্ষয় তৃতীয়াতেই৷ শুভদিন হলেও তেমন ভাবে সোনা কেনার রেওয়াজ ছিল না যেটা ইদানিং বেড়ে যেতে দেখা গিয়েছে ৷ মূলত দক্ষিণ ভারত থেকে এই অভ্যাসটি আমদানি হচ্ছে বাংলায় বলে মনে করা হয়৷ এই দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দেওয়া নানা রকম ‘অফার’ প্রলুব্ধ করছে অনককেই ৷ তাছাড়া মাস দেড়েক ধর্মঘটের শেষে সোনার দোকান ফের খোলার পর থেকেই বিয়ে-বাজারের জন্যে ভিড় বাড়ছিল এমনিতেই। তার মধ্যে অক্ষয় তৃতীয়ার নানা অফারে দোকানের ভিড় উপচে পড়বে বলেই আশা৷

তবে শুধু সোনা কেনার জন্যই অক্ষয় তৃতীয়া নয় যুগ যুগ ধরে বেশ কিছু ত্যৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল এই দিনটিতে আর সেগুলিই এক ঝলকে একবার দেখে নেওয়া যাক৷

১) কথিত আছে এই শুভদিনে জন্ম নিয়েছিলেন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম।

২)  বেদব্যাস ও গনেশকে নিয়ে এই দিনে মহাভারত রচনা শুরু করেন।

৩) এদিনই সত্যযুগ শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা বলে ধরা হয় ।

৪) এদিনেই রাজা ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন।

৫) আবার কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে এদিনই মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেছিলেন। goldযেহেতু কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল তাই এদিনটিকে বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।

৬) এদিন থেকেই পুরীধামে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে রথ নির্মাণ শুরু হয়।

৭) কেদার বদরী গঙ্গোত্রী যমুনত্রীর যে মন্দির ছয়মাস বন্ধ থাকে এইদিনেই তার দ্বার উদঘাটন হয়। দ্বার খুললেই দেখা যায় সেই অক্ষয়দীপ যা ছয়মাস আগে জ্বালিয়ে আসা হয়েছিল।

৮) এদিনই সুদামা শ্রী কৃষ্ণের সঙ্গে দ্বারকায় গিয়ে দেখা করেন এবং তাঁর থেকে সামান্য চালভাজা নিয়ে শ্রী কৃষ্ণ তাঁর সকল দুঃখ দূর করেছিলেন।

৯) এদিনই দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং তখন সখী কৃষ্ণাকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ।

১০) এদিনই দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে।

—————————————————–