নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: অভিনেতা অক্ষয়কুমার শেষ কয়েক বছরে এয়ারলিফট, বেবি, গোল্ডের মতো হিন্দি সিনেমাগুলোতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন৷ এই সিনেমাগুলোতে জাতীয়তাবাদ এবং দেশভক্তির বিষয় রয়েছে তারপর নির্বাচনের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অরাজনৈতিক’ সাক্ষাৎকার, অচিরেই আক্কিকে ভারতের কিছু লোকের চক্ষুশূলে পরিনত করেছে৷ টানাটানি শুরু হয়েছে অক্ষয়ের নাগরিকতা নিয়ে৷ এতেই বিরক্ত খিলাড়ী কুমার এবার সোশ্যাল মিডিয়াতে মুখ খুললেন৷

অক্ষয় কুমারের কানাডার নাগরিকত্ব রয়েছে এ বিষয়টি ভারতের এক বড় অংশের মানুষ জানেন৷ সঙ্গে অক্ষয়ের রয়ছে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেনশিপ৷ যার ফলে ভারতে U-ভিসা নিয়ে স্থায়ী বসবাস করা এবং কাজের সুযোগ পেলেও ভোটাধিকার এবং কোনও সাংবিধানিক পদে বসার যোগ্যতা নেই অক্ষয়ের৷ ভোটাধিকার না থাকার কারণে এবং কানাডার নাগরিক হওয়ার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে সোশ্যালস মিডিয়াতে অক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেছিল একদল অত্যুসাহী অতিবাম মনষ্ক মানুষ৷ এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্র মারফৎ৷ এই প্রচারের পরই বৃহস্পতিবার অক্ষয় টুইটারে একটি পোস্ট করেন যেখানে লেখা হয়েছে, ‘‘আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না আমার নাগরিকতা নিয়ে কিছু মানুষ অযথা কেন উৎসাহী হয়ে পড়েছেন৷ কেনই বা আমার নাগারিকতার বিষয়টি নিয়ে নেগেটিভ ছবি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷’’

অক্ষয় টুইটারে আরও লিখেছেন, ‘‘আমার কানাডিয়ান পাশপোর্ট রয়েছে এটা আমি কোনদিন গোপন বা অস্বীকার করিনি৷ তবে এটাও ঠিক আমি শেষ সাতবছরে একবারও কানাডা যাইনি৷ আমি ভারতেই কাজ করি এবং সমস্ত ট্যাক্স দিয়ে থাকি৷ এই কবছরে আমাকে কখনো কারও কাছে দেশে প্রতি ভালোবাসা প্রমাণ করতে হয়নি৷ আমার নাগরিকতা বিষয়টিকে নিয়ে যেভাবে টানা হেঁচড়া চলছে তাতে আমি হতাশ৷ যদি এসবের পরও ভারতে আরও শক্তিশালী বানানোর জন্য আমি আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস করে যাবো৷’’

বিশেষজ্ঞদের মতে ভোটেরবাজারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অরাজনৈতিক সাক্ষাতকার নিয়েই বিরোধী সমর্থকদের চক্ষুশূল হয়েছেন খিলাড়ী কুমার তাই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে টানা হেঁচড়া চলছে৷

প্রসঙ্গত ওভারসিজ সিটিজেনশিপ কী? ১৯৫৫ সালে পাশ হয় Indian Citizenship Act, এই অ্যাক্টে “দ্বৈত নাগরিকত্বকে” পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছিল৷ ২০০৩ সালে এই অ্যাক্ট পরিবর্তন করে POI (অর্থাৎ পিপল অফ ইন্ডিয়ান অরিজিন) দের জন্য আংশিক দ্বৈত নাগরিকত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়৷ অর্থাৎ এমন কোনও ব্যক্তি যারা দাদু, ঠাকুমা, বাবা, মা-র কেউ ভারতের নাগরিক ছিলেন সে ভারতে নাগরিকত্বের সুবিধা নিতে পারবে৷ যদি সে অন্য দেশের নাগরিক হয় তাও( তবে সে ক্ষেত্রে ব্যক্তি যে দেশের নাগরিক রয়েছেন সেই দেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃত হতে হবে৷)

এবার ২০০৫ সালে আরও একবার Indian Citizenship Act -কে পরিবর্তন করা হয়। এবং এখানে বলা হয় এই সুবিধা ( আংশিক দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধাটি) বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের নাগরিকরা বাদে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকরা পাবেন৷ এরপর ২০০৬ সালে “প্রবাসী ভারতীয় দিবসে” ওভারসিজ সিটিজেনশিপ( আংশিক দ্বৈত নাগরিকত্ব পিপল অফ ইন্ডিয়ান অরিজিনদের জন্য) চালু হয়৷

ওভারসিজ সিটিজেনশিপ থাকা প্রবাসী ভারতীয় ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিকদের পাওয়া কিছু সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল:-
১) তারা ভোট দিতে পারেন না৷
২) তারা কোন সাংবিধানিক পদে বসতে পারেন না৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।