লখনউ: আরএসএসের সৈনিক স্কুল তৈরির ঘোষণাকে একহাত নিলেন সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব৷ তাঁর কটাক্ষ আরএসএস যে সৈনিক স্কুল তৈরি করছে, তাতে শুধু গণপিটুনির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে৷ যেখানে দেশে কেন্দ্র সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সেনা স্কুল ইতিমধ্যেই রয়েছে, সেখানে আরএসএস কেন সেনা স্কুল তৈরি করতে চাইছে? প্রশ্ন তুলেছেন অখিলেশ৷

উল্লেখ্য উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে একটি সৈনিক স্কুল তৈরি করার কথা ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ৷ সেই উদ্যোগকেই কড়া ভাষায় এদিন আক্রমণ করেছেন অখিলেশ৷ তিনি বলেন সেনার প্রশিক্ষণ নয়, ওখানে শেখানে হবে গণপিটুনি দেওয়ার দক্ষতা৷

এদিন অখিলেশ বলেন দেশে ৫টি সেনাস্কুল রয়েছে৷ দুটি রাজস্থানে, দুটি কর্ণাটকে ও একটি হিমাচল প্রদেশে৷ এছাড়াও উত্তর প্রদেশের লখনউতে সমাজবাদী পার্টির তত্ত্বাবধানে একটি সেনা স্কুল রয়েছে৷ তাহলে এসবের বাইরে নতুন করে সেনা স্কুল চালু করার উদ্যোগ কেন নিচ্ছে আরএসএসের মত একটি ধর্মান্ধ রাজনৈতিক সংগঠন? এর পিছনে কাজ করছে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য৷ এমনই মত সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমোর৷

আরও পড়ুন : ডেলিভারি বয় হিন্দু না হওয়ায় অর্ডার বাতিল গ্রাহকের, Zomato-র জবাবে মুগ্ধ নেটিজেন

মঙ্গলবারই এই সেনা স্কুল তৈরির কথা ঘোষণা করে আরএসএস৷ ২০২০ সালের এপ্রিলে উত্তরপ্রদেশে বুলন্দশহরের শিকারপুরে এই আর্মি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ ইকনমিক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আর্মি স্কুলে পড়ুয়াদের সেনা আধিকারিক হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে৷ প্রাক্তন আরএসএস প্রধান রাজেন্দ্র সিং ১৯২২ সালে এই শিকারপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তারই নাম অনুযায়ী এই স্কুলের নাম হবে রজ্জু ভাইয়া সৈনিক বিদ্যা মন্দির৷

জানা গিয়েছে, সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের সিলেবাসই মেনে চলা হবে এখানে৷ ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পঠন পাঠন চলবে এই স্কুলে এবং ক্লাস শুরু হবে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে৷

আরও পড়ুন : পাকিস্তানে ঢুকে শত্রুঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ এবার আপনার সামনে

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের বিদ্যা ভারতী উচ্চ শিক্ষা সংস্থানের রিজিওনাল কনভেনার অজয় গোয়েল জানান, আর্মি স্কুলের প্রথম ব্যাচের ছাত্রদের জন্য প্রসপেকটাস প্রায় তৈরি৷ আগামী মাস থেকে আবেদন পত্রও দেওয়া শুরু হবে বলে জানান গোয়েল৷

তিনি আরও বলেন, প্রথম ব্যাচে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১৬০ জন ছাত্রকে নেওয়া হবে৷ শহিদদের সন্তানদের জন্য ৫৬ আসন সংরক্ষিত থাকবে৷ এই স্কুলের উন্নতির জন্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকদের পরামর্শও নেওয়া হবে৷ দেশে এই ধরণের মডেল ভবিষ্যতের কথা ভেবেই করা হচ্ছে৷ এবং দেশে এই প্রথম এই রকম একটি এক্সপেরিমেন্ট করা হচ্ছে৷