নয়াদিল্লি: তিনি কে ? পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি ফের উস্কে দিল নতুন গবেষণা৷ যোধাবাঈ হিসেবেই ইতিহাসে তাঁর পরিচিতি৷ নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে রাজপুতানি নন, যোধাবাঈ ছিলেন পর্তুগীজ৷  বিতর্কের কেন্দ্রে গোয়ানিজ লেখক লুইস ডি অসিসের লেখা “Portuguese India and Mughal Relations 1510-1735” বই৷

এই বইতে লেখকের দাবি, যোধাবাঈ আদতে পর্তুগীজ মহিলা৷ তাঁর আসল নাম ডোনা মারিয়া ম্যাস্কেরেনহাস( Dona Maria Mascarenhas)৷ এই ভিনদেশী মহিলাকে চতুর্দশ শতকের (১৫০০ শতাব্দী) মধ্যভাগে বন্দি করেছিলেন গুজরাটের সুলতান বাহাদুর শাহ৷ পরে মুঘল সম্রাট আকবরের কাছে পর্তুগীজ মহিলা ডোনাকে ‘ভেট’ হিসেবে পাঠানো হয়৷ এই ভেট তালিকায় ছিল ডোনার বোন জুলিয়ানা৷

লেখকের আরও দাবি, সাগরপারের নীলনয়না পর্তুগীজ ডোনাকে দেখে প্রেমে পড়েছিলেন আকবর৷ বিবাহিত হয়েও আকবর তাকে বিয়ে করেছিলেন৷ আর ডোনার বোন জুলিয়ানাকে রাখা হয়েছিল মুঘল হারেমে৷  কেনও পর্তুগীজ মহিলা ডোনার নাম যোধাবাঈ হল তা নিয়ে বিতর্কের জবাব স্পষ্ট করেননি লেখক৷

তবে যোধাবাঈকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে৷  এতদিন রাজপুত হিসেবেই বিবেচনা করা হত৷ যোধপুরের রাজকন্যা হিসেবেই তিনি সুপরিচিত৷ তাঁর পিতা উদয় সিং মারওয়ার৷ বিতর্ক চরমে ওঠে যখন বলা হয় যোধাবাঈ আকবরের স্ত্রী ছিলেন না৷ তিনি আসলে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ছিলেন৷ যদিও এর কোনও সমাধান হয়নি৷

পুরনো বলিউডি মেগাহিট সিনেমা মুঘল এ আজম (১৯৬০)ও হাল আমলের যোধা-আকবর(২০০৮) ছবিতে যোধাবাঈকে আকবরের স্ত্রী হিসেবেই দেখানো হয়েছে৷ ইতিহাসবিদদের দাবি, এই তথ্য ভুল৷ সেই বিতর্কের উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন গোয়ানিজ লেখক লুইস ডি অসিস৷ তাঁর আরও দাবি, কোনও পর্তুগীজ মহিলাকে মুঘল হারেমে রাখার কথা স্বীকার করেনি সেদেশের ক্যাথলিকরা৷  উল্টোদিকে কোনও মুঘল ইতিহাসবিদ ও খ্রিষ্টান মহিলাকে হারেমে রাখার কথা স্বীকার করেনি৷  ফলে যোধাবাঈকে ঘিরে ভ্রান্তি তৈরি হয়েছে৷

লেখকের দাবি, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী হিসেবে বর্ণিত যোধাবাঈয়ের অস্তিত্ব নিয়েও রহস্য আছে৷ বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পারা যায়, এটি সঠিক তথ্য নয়৷ যোধাবাঈ আদতে পর্তুগাল থেকে এসেছিলেন৷ তিনি আকবরের স্ত্রী৷ ভারতে আসা ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রতি সহানুভূতি ছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের৷ পর্তুগীজ মা’য়ের কল্যাণেই তিনি এরকম অনুভূতিপ্রবণ ছিলেন৷