দেশ জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে শক্তি পীঠ। হিমাচল প্রদেশের জ্বালা পীঠ তার মধ্যে অন্যতম। তবে, অনেকেই জানেন না যে ওই মন্দিরে একসময় সোনার ছাতা দিয়েছিলেন মুখগল সম্রাট আকবর। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি? তার পিছনে রয়েছে এক বিশেষ গল্প।

ধ্যানু নামের একজন পরম মাতৃভক্ত ব্যক্তি ছিলেন । তিনি সর্বদা মায়ের নাম জপ করতেন। সেই ধ্যানু একদিন মা জ্বালা দেবীকে দর্শন করতে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। ট্রেন, বাস, না থাকায় শকট , টাঙ্গা, নৌকা ছিল যাতায়াতের মাধ্যম। কিংবা পদব্রজে যেতে হত। তাও যাত্রা পথ সুরক্ষিত ছিল না। একদিকে যেমন ছিল বন্য জন্তুর উৎপাত, অপরদিকে ডাকাত দের উৎপাত ছিল। তাই তীর্থ যাত্রার সময় প্রচুর লোক একত্রে যেত, লোক বেশী থাকলে ডাকাত রা লুঠপাট চালাতে সাহস পেতো না। ধ্যানুর সঙ্গে প্রায় এক হাজার তীর্থযাত্রী রওনা দেয়।

ওঁ চিহ্ন পতাকা, জয় মাতা দি লেখা পতাকা নিয়ে ভক্তরা যাচ্ছিল। দুর্গা মাতা কি জয়, কালী মাতা কি জয়, জ্বালা মাতা কি জয়- বলতে বলতে তীর্থযাত্রীরা জ্বালা পীঠের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। মায়ের ধামে যাত্রা করার নিয়ম আছে। অনবরত মায়ের নামে জয়ধ্বনি করার প্রথা দেখা যায়। কিন্তু দেশে তখন মুঘল শাসন। হিন্দু নির্যাতন ছিল প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা । মুঘল সেনারা এত তীর্থ যাত্রী, ওঁ পতাকা, মা দুর্গার পতাকা, মায়ের জয়ধ্বনি দেখে ভাবল এঁরা নিশ্চয়ই মুঘল সাম্রাজ্যের নামে ষড়যন্ত্র করবার জন্য একত্রিত হয়ে যাচ্ছে। মুঘল সেনারা সব তীর্থযাত্রীদের বন্দি করে সম্রাট আকবরের কাছে নিয়ে গেল।

আকবর তাঁর সেনাদের কাছে সব শুনলেন। বললেন, ”মুঘল সাম্রাজ্যের বিরূদ্ধে চক্রান্ত করছ? জানো এর শাস্তি কি?” ধ্যানু বাদশাহকে প্রনাম জিআনিয়ে বলে, “জাহাপানা। আমি আপনার বিরূদ্ধে চক্রান্ত করিনি। আমরা নির্দোষ। আমরা সকলে জ্বালা দেবী দর্শনে যাচ্ছি। আপনার সেনারা ভুল সন্দেহ করে আমাদের আটক করেছে।”

আকবর দেবীর দেবীর মহিমা সম্পর্কে জানতে চাইলে, ভক্ত ধ্যানু বলেন-“ দেবীর সামনে একটি অগ্নিশিখা আপনেই প্রজ্বলিত থাকে, সেখানেই ভক্তেরা পূজো করেন, সেই শিখা নেভে না।” এরোর আকবর বলেন, “তাই যদি হয়, আমি এখুনি একটি ঘোড়ার মুণ্ডচ্ছেদ করবো, তোমাদের দেবী যদি জাগ্রতা হন- তাহলে সেই ঘোড়াকে জীবিত করে দেখান দেখি। তারপর মানবো।” ধ্যানু বলল- “জাহাপানা আপনি একমাস সময় দিন, আপনি একমাস সেই মৃত ঘোড়াটির দেহ সংরক্ষণ করুন। মায়ের কৃপায় সব সম্ভব।”

ধ্যানু দেবীর কাছে প্রার্থনা করতেন যে মৃত ঘোড়াটিকে প্রান দান করার জন্য একদা ধ্যানু ভাবল, মা যদি দর্শন না দেন, তাহলে এই প্রান আর রাখবো না। এই বলে ধ্যানু মায়ের সামনে প্রান ত্যাগ করতে উদ্যোগী হলে, মা জ্বালা দেবী প্রকট হলেন। মা বললেন- “ ধ্যানু, তুমি বাদশার কাছে যাও, দেখবে অশ্বটি জীবিত হয়ে গেছে।” ধ্যানু বাদশা আকবরের কাছে গেলো। বাদশা আকবর দেখলেন সত্যই ঘোড়াটি জীবিত হয়ে হেটেচলে বেড়াচ্ছে। বাদশা আকবর মা জ্বালা কে মেনে একদিন জ্বালা পীঠে যান । এসে জলন্ত অগ্নি শিখা দেখলেন । অনেক আকবরকে বুদ্ধি দিল- মন্দিরের সামনের ঝর্নার বাঁক মন্দিরের দিকে মাটি কেটে ঘুরিয়ে দিতে, এতে মন্দিরে জল ঢুকবে। জলের মধ্যেও যদি অগ্নি শিখা জ্বলে থাকে তাহলে বোঝা যাবে দেবীর মহিমা কত ? বাদশা আকবর তাই হুকুম দিলেন। মন্দিরে হুহু করে জল ঢুকে জলে ভর্তি হল। আশ্চর্য জলের মধ্যেও অগ্নি শিখা দিব্যি জ্বলে আছে। আকবর দেবীর মহিমা মেনে নিলেন । বাদশা নিজে ধ্যানু ভক্তের অনেক সুখ্যাতি করে মন্দিরে একটি সোনার ছাতা দান করলেন ।