পোচেস্ট্রুম: বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ার দিনেও বিতর্ক পিছু ছাড়ল না বাংলাদেশ ক্রিকেটকে। জবাব দেওয়ার ছিল অনেককিছুই। রবিবার পোচেস্ট্রুমে ম্যাচ জয়ের পর সেলিব্রেশনের মধ্যে দিয়ে সেই জবাবগুলোই বিপক্ষকে ছুঁড়ে দিচ্ছিল আকবর আলি অ্যান্ড কোম্পানি। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা হঠাতই শালীনতার মাত্রা ছাড়ালেন। ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিলেন না প্রিয়মরাও। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শেষে মাঠেই হাতাহাতি, বচসায় জড়িয়ে পড়লেন দু’দলের ক্রিকেটাররা।

ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে ভারত অধিনায়ককে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রিয়ম ঘটনার জন্য দায়ী করলেন বিপক্ষের ‘নোংরা’ মানসিকতাকেই। ম্যাচ চলাকালীনও স্লেজিং পালটা স্লেজিংয়ে উত্তপ্ত হচ্ছিল ম্যাচের পরিস্থিতি। কিন্তু ম্যাচের পর সেই ঘটনার রেশ যে রয়ে যাবে বুঝতে পারেনি ভারতীয় দল। তাই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের হাত না মেলানোর ঘটনা উদ্ধৃত করে ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা আমাদের দিক থেকে স্বাভাবিক ছিলাম। হার-জিত খেলার অঙ্গ। তোমরা কিছু ম্যাচ জিতবে, আমরা কিছু জিতব। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা খুব নোংরা মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। খেলার মাঠে এমন ঘটনা একেবারেই অনভিপ্রেত।’

দিব্যাংশ সাক্সেনাকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশ পেসার তানজিম শাকিবের বিপজ্জনক থ্রো প্রাথমিকভাবে ম্যাচে উত্তাপ ছড়ায়। এরপর যশস্বী জয়সওয়ালকে আউট করে শরিফুলের সেন্ড-অফ সেলিব্রেশন আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়। হিসেব জমিয়ে রেখেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় একইভাবে পালটা দিতে থাকেন রবি বিষ্ণোইরা। তবে সেটা কখনোই শালীনতার মাত্রা ছাড়ায়নি।

দলের ছেলেদের কৃতকর্মের জন্য সাংবাদিক সম্মেলনে যদিও ক্ষমা চেয়ে নেন আকবর আলি। বাংলাদেশ অধিনায়কের কথায়, ‘আমি সঠিক জানি না কী হয়েছে। কিন্তু ফাইনালের মতো মঞ্চে ছেলেরা আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। ইয়ংস্টার হিসেবে কোনওভাবেই এমনটা করা উচিৎ হয়নি। প্রতিপক্ষকে সবসময় সম্মান করা উচিৎ।’ আকবরের সংযোজন, ‘কয়েকমাস আগে এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল আমাদের। তাই ছেলেরা বদলা নিতে ভীষণ তেতে ছিল। তবে এমনটা ঘটা মোটেই উচিৎ নয়। দলের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’

উল্লেখ্য, বৃষ্টি-বিঘ্নিত ফাইনালে ডাক-ওয়ার্থ লুইস নিয়মে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে রবিবার প্রথম অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটাই প্রথম মেজর ট্রফি জয় বাংলাদেশের।