লখনউ: মহাজোট ভেঙে চৌচির৷ মায়াবতী ও অখিলেশের মতো উপনির্বাচনে ‘একলা চলো’ নীতি নিলেন আরএলডি সুপ্রিমো অজিত সিং৷

এ ছাড়া বিকল্প পথও খোলা ছিল না তাঁর কাছে৷ লোকসভা ভোটে ভরাডুবির পর মায়াবতী জোট ছাড়ার কথা ঘোষণা করে দেন৷ ‘বুয়া’র সিদ্ধান্তকে ‘শিরোধার্য’ মেনে নেন ‘ভাতিজা’ অখিলেশও৷ তিনিও ঘোষণা করেন, সপা একলা লড়তে প্রস্তুত৷ বাকি পড়ে রইল রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি)৷ বুধবার দলের সভাপতি মাসুদ আহমেদ জানিয়ে দেন, ভোট যবে হোক না কেন, আসন্ন ১১টি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে তারাও আলাদা লড়বেন৷ সেই সঙ্গে অবশ্য মহাজোটের আশা জিইয়ে রাখেন৷ বলেন, ‘‘এই মহাজোট যেন অক্ষত থাকে সেই আশাই করছি৷’’

তবে ১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে আরএলডি ক’টি আসনে প্রার্থী দেবে তা ঠিক করবেন দলের সুপ্রিমো অজিত সিং ও তাঁর ছেলে জয়ন্ত চৌধুরী৷ কয়েকদিনের মধ্যে দলের নেতারা বৈঠকে বসবেন৷ সেখানে উপনির্বাচন নিয়ে কথা হতে পারে৷ উল্লেখ্য, যে ১১টি আসনে উপনির্বাচন হবে তার মধ্যে ৯টি বিজেপির দখলে৷ দুটি আসন আছে বসপার কাছে৷ আসন্ন উপনির্বাচন আরএলডি’র কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ৷ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় তাদের কোনও প্রতিনিধি নেই৷

এখন প্রশ্নে উঠছে মহাজোটের ভবিষ্যত নিয়ে৷ মায়াবতী অবশ্য আগামী দিনে জোট বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন৷ জানান, কেবলমাত্র উপনির্বাচনের জন্য এই সিদ্ধান্ত৷ একই কথা বলেছেন অখিলেশ৷ রাজনীতিতে শেষ বলে কোনও কথা হয় না৷ জোটের জন্য দরজা খোলা আছে৷ আরএলডি নেতা আহমেদও জোটকে অক্ষত রাখার পক্ষে ইঙ্গিত দেন৷ তবে তাঁর মতে, বিজেপি বিরোধী জোট মুজবুত করতে হলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকে টেনে আনতে হবে৷ কংগ্রেস মহাজোটে সামিল হলে জোটের জন্য মঙ্গল৷

এদিকে এখন প্রশ্ন উঠছে, মহাজোট থেকে কে বেশি লাভবান হয়েছে আর কার ক্ষতির বহর সবথেকে বেশি৷ তবে বেশি হিসাব না কষেই বলা যায় এই মহাজোটে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে আরএলডি’র৷ প্রথমত, গত লোকসভা ভোটে ৮০টির মধ্যে আটটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল অজিত সিংয়ের দল৷ আটটির মধ্যে ছ’টি আসনে জামানত খোয়াতে হয় আরএলডি প্রার্থীদের৷ হার হয় সবকটি আসনে৷ দ্বিতীয়ত, এবার জোটের কারণে তাদের তিনটি আসন ছাড়া হয়৷ মুজফফরনগর থেকে হারেন অজিত সিং৷ তার ছেলে জয়ন্ত চৌধুরী পরাজিত হন ভাগপত কেন্দ্র থেকে৷ মথুরা থেকে ধরাশায়ী হন কুনওয়ার নরেন্দ্র সিং৷