মুম্বই: গত শনিবার সাত সকালে রাজনৈতিক চমক দিয়েছে মহারাষ্ট্র বিজেপি। তবে তার থেকেও বড় চমক দিয়েছেন এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার। কয়েক ঘণ্টা আগেও শিব সেনার সঙ্গে বৈঠক করা পর রাত পোহাতেই বিজেপির হাত ধরে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন তিনি। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক নাটক নয়া মোড় নেয়।

আর এই ঘটনার ঠিক দু’দিন বাদে সোমবারই সেই অজিত পাওয়ার ৭২০০০ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। ফলে, বিজেপির হাত ধরার পিছনে অন্য গন্ধ পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। CNN News18-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে চলা সেচ প্রকল্পের দুর্ণীতি সংক্রান্ত মামলা ক্লোজ করে দিয়েছে।

১৯৯৯ থেকে ২০১৪-র মধ্যে সেচ দফতরে একাধিকবার দায়িত্বে ছিলেন অজিত পাওয়ার। সেইসময় মহারাষ্ট্রে ছিল কংগ্রেস ও এনসিপি-র জোট সরকার। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে। অন্তত ৭২০০০ কোটির সেই আর্থিক তছরূপের তদন্ত করছিল এসিবি বা অ্যান্টি কোরাপশন ব্যুরো। ২০১৪ সালে ৭০,০০০ কোটি টাকার সেচ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে কংগ্রেস-এনসিপি সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল অজিত পাওয়ারকে।

যদিও মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি কোরাপশন ব্যুরো-র ডিজি পরমবীর সিং জানিয়েছেন, এদিন যে মামলা গুলি বন্ধ করা হয়েছে, তার সঙ্গে অজিত পাওয়ারের কোনও সম্পর্ক নেই।

এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে কংগ্রেস ও শিব সেনা।

সূত্রের খবর, শরদ পাওয়ারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে অনেকগুলি দুর্নীতির মামলা রয়েছে। সেগুলির থেকে বাঁচতেই তিনি ক্ষমতাসীন গেরুয়া দলের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করছেন, এমন প্রশ্নও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। একটি সেচ কেলেঙ্কারি এবং একটি ব্যাংক দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত অজিত পাওয়ার বেশ কিছুদিন ধরেই নাকি দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে যোগাযাোগ রাখছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

পাশাপাশি মহারাষ্ট্র নির্বাচনের প্রচারের সময় তাঁর একটি গাড়ি থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়, তখনও তিনি খবরের শিরোনামে ছিলেন।

কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা আগেই বলেছেন, “মহারাষ্ট্র নির্বাচনের আগে বিজেপি বলেছিল যে অজিত পাওয়ারকে মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলে সেচ কেলেঙ্কারির অভিযোগে বন্দি করা হবে। নির্বাচনের পরে তাঁকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে”।