নয়াদিল্লি: কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের আগে থেকেই অতর্কিতে শুরু করেছিলেন নজরদারি। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়িয়ে যেতে নির্দেশ মতন মোতায়েন করা হয়েছিল সেনা ও পুলিশ। কেন্দ্রের কাশ্মীর নিয়ে সিদ্ধান্তের পর এসেছিল বিভিন্ন মতামত। তবে সরকার ছিল সজাগ যার ফলে অনেকটাই এড়িয়ে যাওয়া গেছে সন্ত্রাসমূলক কাজ। নেপথ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। যিনি প্রথমদিন থেকে স্বশরীরে কাজ করছেন। শেষ কিছুদিন রয়েছেন কাশ্মীরে। সোমবার বখরি ইদ উদযাপনের ছবি পোষ্ট করেছেন সেখান থেকেই।

সোমবার তিনি আকাশ থেকে উপত্যকার নজরদারি চালান যাতে কড়া নিরাপত্তায় মানুষ সুষ্ঠুভাবে ইদ কাটাতে পারেন। তিনি জানান জম্মু ও কাশ্মীরের কোথাও এখনও অবধি কোন অশান্তির খবর নেই। ইদ কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণ। এর ঠিক পরেই তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিসদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন।

বিক্ষিপ্তভাবে কিছু অশান্তির খবর এলেও তা জম্মু ও কাশ্মীরের তরফে অস্বীকার করা হয়। মুখ্য সচিব রোহিত কানসাল বলেন, “এই পরসঙ্গে আমি বলতে চাই যে এইরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি জম্মু ও কাশ্মীরে। আমি পুরায় বলছি যে একটা গুলিও চলেনি সিকিউরিটি এজেন্সির তরফে না কোন আহত হওয়ার খবর আছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে যে, ইদ উপলক্ষ্যে কাতারে কাতারে মানুষ সেখানকার বহু মসজিদে গিয়ে প্রার্থনা করেছে। কমপক্ষে দশ হাজার মানুষ প্রার্থনা করেছে কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের জামা মসজিদে। এই মসজিদটি বারামুল্লায় অবস্থিত। একই ছবি উঠে আসে শ্রীনগর। সোপিয়ান। অনন্তনাগ। বুদগাম ও বান্দিপোরাতে।

অজিত দোভাল ব্যাক্তিগত উদ্যোগে আকাশ পঠে ঘুরে দেখেন গোটা জম্মু ও কাশ্মীর। খতিয়ে নেন ইদের দিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সব কাজ সেরে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশদের সাথে খাবার নিয়ে ইদ উদযাপনের ছবি শেয়ার করেন। তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের বাহবা দেন। ইদ উপলক্ষ্যে কেউ কেউ ১৬ ঘণ্টার বেশি কাজে নযুক্ত ছিলেন।

কাশ্মীরের উপর থেকে তুলে নেওয়া হয় ৩৭০ ধারা। যার ফলে পুনর্জন্ম লাভ করেছে ভারতের এই রাজ্য। কিন্তু উত্তপ্ত এই পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তির অন্ত নেই রাজ্যবাসীর মনে। তাই রাজ্যবাসীর মন থেকে বিভ্রান্তি সরাতে উদ্যোগী হল জম্মু-কাশীর পুলিশ।