নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন গত পাঁচ বছরের সরকারের অন্যতম সাফল্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। আর সেই অভিযানের পিছনে যার মাথা কাজ করেছিল, তিনি হলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। ২০১৪ তে মোদী ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে এই পদ দেওয়া হয়। এবার নতুন সরকারেও আগামী পাঁচ বছরের জন্য একই পদে বহাল থাকবেন তিনি।

সোমবার অজিত দোভালকে নতুন করে অ্যাপয়েন্ট করা হয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে। সঙ্গে এবার থেকে তাঁকে দেওয়া হবে ক্যাবিনেট র‍্যাংক বা একজন পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা। এর আগে তিনি ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর পদেও ছিলেন।

গত পাঁচ বছরে শুধু সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নয়, দোভালের নেতৃত্বে একাধিক অভিযান চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। পুলওয়ামা হামলার পর বালাকোটে হামলা চালানো হয় সম্প্রতি।

গত বছর দোভাল এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ”২০৩০ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রয়োজন শক্তিশালী, স্থিতিশীল এবং দৃঢ় এক সরকার। বিশ্বে বৃহত্তম অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে ভারতের অর্থনীতি অন্যতম৷ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারত ক্রমশ তার পরিসর বৃদ্ধি করছে৷ তাই ভারতের প্রয়োজন এমন এক সরকার যা খুবই দৃঢ় এবং শক্তিশালী হবে৷”

২০০৫ সালে আইবি’র ডিরেক্টর পদ থেকে অবসর নেন কেরল ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসার৷ গোয়েন্দা ব্যুরোর সদস্য হিসাবে একাধিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে৷ ভারতের জেমস বন্ড হিসাবেই পরিচিত তিনি৷

১৯৬৭ সালে আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম স্থান পেয়ে এমএ পাশ করেন দোভাল। ১৯৬৮ সালে কেরালা ক্যাডারে যোগ দেওয়া এই প্রাক্তন আইপিএস অফিসার দেশের পঞ্চম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। অতীতে আইবি-র ডিরেক্টরের গুরুদায়িত্বও সামলেছেন ৭১ বছর বয়সি দোভাল। মনে করা হয়, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে আসার পিছনে দোভালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, ২০১৪ সালে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পরে থেকেই নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী।