সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : বিক্রমগড় বাজারে আক্রান্ত যাদবপুরের দুই AISA সংগঠনের পড়ুয়ার জন্য পথে নামল SFI ও AISA। দুপুর দুটোয় মিছিল হয় যাদবপুরের ৪ নম্বর গেট থেকে বিক্রমগড় বাজার পর্যন্ত। ‘ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে’ এই শীর্ষক মিছিলে নেমে বাম ছাত্র সংগঠন বার্তা বিজেপি’র অবস্থা ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়ানের মতো হবে।

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশন(AISA) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির রাজ্য সভাপতি নীলাশিস বসু বলেন , ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের AISA কর্মী এক ছাত্রীর ওপর আক্রমণ করলো বিজেপি গুন্ডারা। আজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় বিজয়গড়ে যাদবপুরের সোশ্যিওলজি বিভাগের ঐ কমরেডের ওপর আক্রমণ করে বিজেপি গুন্ডারা, যাদবপুর থানায় এফআইআর করতে গিয়েছেন সাথীরা। আমরা AISA রাজ্য কমিটি এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানাই এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

এরপরেই AISA রাজ্য সম্পাদক স্বর্ণেন্দু মিত্র বলেন, ‘দিলীপ ঘোষ যেভাবে প্রকাশ্যে গুলি করার হুমকি দিচ্ছেন, কমিউনিস্টদের পেটানোর নিদান দিচ্ছেন, এই ঘটনার ফাসিজমের বহিঃপ্রকাশ। বিজেপি’র ফ্যাসিস্ট রূপ প্রকট হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে বিজেপি যেভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তাতে এটাই তাদের ওয়াটারলু হয়ে উঠবে। এই ফ্যাসিস্ট গেরুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিবাদ, প্রতিরোধকে হবে।’

প্রসঙ্গত, বিজেপির সভার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। যাদবপুরের সমাজবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বিভাগের ছাত্রীর অভিযোগ, মঙ্গলবার বিক্রমগড়ে সিএএ-র সমর্থনে পথসভা ছিল বিজেপির। সেখান থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কটুক্তি করা হয়৷ পাল্টা সিএএ-র বিরুদ্ধে সরব হন অর্জুন ও বর্ষা নামে দুই পড়ুয়া। ছাত্রীর দাবি, এরপরই সভা শেষে অর্জুনের উপর চড়াও হন বিজেপিকর্মীরা। শুরু হয় মারধর। বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর ও হেনস্থা করা হয়। তারা যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানায়। পড়ুয়া ও তাঁর বন্ধুর। শ্লীলতাহানি, মারধর-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা। এই বিষয়ে বিজেপির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

(ওয়াটার লু যুদ্ধের ইতিহাস) :

নেপোলিয়ান একসময় ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ দখল করে নিয়েছিলেন। একটা সময় ইউরোপের সমস্ত দেশ মিলে ফ্রান্স তথা নেপোলিয়ানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। বিরোধি পক্ষ খুব দ্রুত প্যারিসকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

নেপোলিয়ানের কিছু করার ছিল না। সবশেষে তার সৈন্যরাও তাকে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে দিয়ে দেয়। নেপোলিয়ানের অবর্তমানে ফ্রান্সের রাজসিংহাসনে বসলেন বুরবোঁ পরিবারের অষ্টাদশ লুই। নতুন করে তিনি রাজতন্ত্র প্রতিষ্টা করে আবার ফ্রান্সকে পুনরুৎজীবীত করতে লাগলেন। কিন্তু ফ্রান্সের জনগন অষ্টাদশ লুই এবং তার এই নতুন শাসনব্যবস্থাকে মোটেই খুশি মনে স্বীকার করে নেয়নি। ফ্রান্সের সেনাবাহিনী নেপোলিয়ানের ব্যক্তিত্ব, সাহসিকতা এবং আকর্ষনীয় শক্তিতে মুগ্ধ হয়ে লুইয়ের পক্ষ ত্যাগ করে নেপোলিয়ানের পক্ষে যোগ দিল। আবার এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৮১৫ সালে ফ্রান্সের রাজসিংহাসনে আবার প্রত্যাবর্তন ঘটে নেপোলিয়ানের।

নেপোলিয়ানের এই প্রত্যাবর্তনের ফলে মোটেই খুশি হল না ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলি। তারা নেপোলিয়ানকে বিতাড়িত করবার জন্য নানা অঙ্ক কষতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা ফের বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে আক্রমণ ফ্রান্স করে। ১৮১৫ সালের মার্চ মাসে এই আক্রমণের মূল হোতা ছিলেন ডিউক অব ওয়েলিংটন। তিনি এবং পার্শিয়ার সৈন্যবাহিনী মিলে ওয়াটার লু’র প্রান্তরে পরাজিত করেন নেপোলিয়ানকে। আর এই যুদ্ধই ওয়াটার লু’র যুদ্ধ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।