সৌপ্তিক বন্দ্যপাধ্যায় : শিক্ষাবর্ষে সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের ফি মকুব করার দাবি জানাচ্ছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশন। শুধু ছাত্রছাত্রী নয় এই তালিকায় গবেষকদেরও রেখেছে এই ছাত্র সংগঠন। এই সমস্ত কিছু দাবির একমাত্র কারণ লকডাউন। কারণ তাঁরা মনে করছেন লকডাউন করা হয়েছে অপরিকল্পিত ভাবে। তার ফল ভুগছে নানা ভাবে নানা খেত্রের মানুষ। তাই সরকারকে তাঁদের এবারের আর্জি শিক্ষাক্ষেত্রে ফু মকুব করা।

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির রাজ্য সভাপতি নীলাশিস বসু জানিয়েছেন , ‘এই সময়ে অপরিকল্পিত লকডাউনের ফলে দেশজুড়েই যে অচলাবস্থা তৈরী হয়েছে তার ফল ভুগতে হচ্ছে ছাত্র ছাত্রীদেরও। ইতিমধ্যেই তার পঠনপাঠনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে যে মাধ্যম সরকার বেছে নিয়েছে সেই ডিজিটাল মাধ্যমও সকলের কাছে পৌঁছাচ্ছেনা।

প্রান্তিক পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক আঘাতও নেমে এসেছে ছাত্রছাত্রীদেরও ওপর। এই সময়ে তাই আমরা অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) প:বঙ্গ রাজ্য কমিটি দাবি করছি অবিলম্বে সরকারি, বেসরকারি সমস্ত মাধ্যমেই একদম প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্র পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের সমস্ত ধরণের ফি/খরচ মকুব করা হোক।’

রাজ্য সম্পাদক, স্বর্ণেন্দু মিত্র জানিয়েছেন , ‘গোটা দেশ জুড়ে খাদ্যের যে সংকট শুরু হয়েছে, মানুষের খাদ্যের অধিকারের দাবীতে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের ডাকে আগামী ১২ এপ্রিল দেশজুড়ে যে প্রতিবাদ দিবস, আমরা এই কর্মসূচির প্রতিও পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন জানাচ্ছি। নিম্নলিখিত কয়েকটি দাবির ভিত্তিতে আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে আমাদের দাবিপত্রও মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছি’। আইসার দাবিগুলি

১) এই শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্র পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সমস্ত মাধ্যমেই ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের সমস্ত ধরণের ফি/খরচ মকুব করতে হবে। ২) বহু ছাত্রছাত্রী হঠাৎ ঘোষণা হওয়া লকডাউনের ফলে বাড়ি থেকে দূরে রাজ্যের বিভিন্ন শহরের হোস্টেলগুলিতেই আটকে আছেন। তাদের হোস্টেল ফি মকুব করতে হবে।

৩) গতমাসে প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিকের মিড-ডে মিল ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হলেও এই মাসে দেওয়া হয়নি। অবিলম্বে মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বাড়িয়ে সকলের বাড়িতে মিড-ডে মিল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে লকডাউন যতদিন চলবে ততদিন। ৪) এই শিক্ষাবর্ষের পঠনপাঠন শেষ করার জন্য সরকার যে ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্য নিচ্ছে তাতে অনেক ছাত্রছাত্রীই সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছে। অবিলম্বে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা সরকারকে ভাবতে হবে যাতে কেউই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না থাকে।