সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : কালীঘাটের দুই নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

AISA (All INDIA STUDENTS ASSOCIATION) ও AIPWA (ALL INDIA PROGRESSIVE WOMEN’S ASSOCIATION)- এই দুই সংগঠনের দাবি পুলিশ কর্তা ওই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন ওই এলাকার মেয়েরা ওই ঘটনার সঙ্গে অভ্যস্ত।

রবিবার দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে হায়দরাবাদে প্রিয়াঙ্কা রেড্ডিকে গনধর্ষন করে খুন এবং কলকাতার কালীঘাটের দুই নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি নিয়ে মিছিল হয়।

হাজরার মোড় থেকে কালীঘাট পুলিশ স্টেশন পর্যন্ত সেই মিছিলে প্রচুর ছাত্র ছাত্রী অংশ নেয়। বিক্ষোভ দেখানোর পর দুই সংগঠনের নেতা নেত্রীরা কালীঘাট থানার বড়বাবুর সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পান।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা এলাকার আইন শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেই চমকে দেওয়ার মতো মন্তব্য পেশ করেন পুলিশ অফিসার।

AISA ও AIPWA-এর বিক্ষোভকারীরা জানান, কালীঘাট থানার বড়বাবু তাঁদের বলেন, ‘ওই মেয়েরা তো এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে অভ‍্যস্ত।’

AISA ও AIPWAএর সদস্যরা জানিয়েছেন, ‘খোদ পুলিশের মুখেই এমন কথা আমাদের অবাক করেছে। শুধু আমরা নয় যে কেউ এমন ঘটনা প্রসঙ্গে এমন উত্তর পেলে অবাক হবে। যাদের কাছ থেকে আমরা ন‍্যায় বিচারের আশা করি, তাঁদের মুখেই এমন কথা, তাঁদেরই এহেন মনোভাব।’

সংগঠনের দাবি, এই ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা রুখতে তাঁরা যখন জনসাধারণের মধ্যে ‘Gender Sensitisation Campaign’ চালু করার দাবি জানায়, তখন তিনি তাদের বলেন এসবের দায়িত্ব নিতে তারা পারবেন না।

কালীঘাট থানার ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস বলেন , ‘হ্যাঁ ওঁরা এসেছিল, বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ওদেরকে থানায় ডেকে আমরা কথা বলেছি কিন্তু এমন কোনও মন্তব্য আমরা করিনি। এটা ভুল কথা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবাদী ছাত্রীর কথায়, ‘এতদিন লোকের মুখে পুলিশ-প্রশাসনের গাফিলতির কথা শুনতাম, আজ নিজের চোখে দেখে এলাম। এরপরও আর এই অভাগা দেশের দায়িত্বহীন প্রশাসকদের ওপর আস্থা রাখবেন?

ওই ছাত্রী আরও বলেন, যে রাজ‍্যে খোদ পুলিশই মনে করে যে, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া কালীঘাট অঞ্চলের ওই দুই নাবালিকা ধর্ষণের মতো ঘটনার সঙ্গে ‘অভ‍্যস্ত’, এবং এই বলে তারা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যান; তাহলে এই সমাজে মেয়েদের বাঁচতে গেলে তাঁদের প্রত‍্যেককেই কটূক্তি- শ্লীলতাহানী- ধর্ষণের মতো ঘটনার সঙ্গে “অভ‍্যস্ত” হয়ে পড়তে হবে।’

AISA ও AIPWA দুই সংস্থাই জানিয়েছে, তাদের এই লড়াই জারি থাকবে। তাদের দাবি, সমাজে ‘Gender justice’ সুনিশ্চিত করতে ‘Gender Sensitisation Campaign’ চালাতে হবে।