নয়াদিল্লি: টেলিকম সংস্থাগুলির স্পেকট্রামের কিস্তি দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দু’বছর সময় দিলেও, সুপ্রিম কোর্টের সম্প্রতি দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আর্জি জানাল তিনটি টেলিকম সংস্থা৷ সর্বোচ্চ আদালতের কাছে ভোডাফোন আইডিয়া, এয়ারটেল এবং টাটা টেলিসার্ভিসেস ওই বকেয়ার উপর ধার্য জরিমানা, সুদ ও জরিমানার উপরে সুদ মকুব করার আর্জি জানিয়েছে ৷

প্রসঙ্গত দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে মামলা চলার পর গত ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট টেলিকম সংস্থাগুলির আপত্তি অগ্রাহ্য করে তাদের লাইসেন্স ফি ও স্পেকট্রাম ব্যবহারের চার্জ নির্ধারণের জন্য টেলিকম দফতরের ‘মোট রাজস্ব’-এর দেওয়া সংজ্ঞাকেই মান্যতা দেয়৷ ওই দুই খাতে বকেয়া অর্থ তিন মাসের মধ্যে জমা করার নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত৷ এরজন্য বকেয়া মোট অর্থের পরিমাণ ১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা।

এমনিতে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে মাসুল যুদ্ধে নেমে রীতিমোত বেহাল দশা এই সব টেলিকম সংস্থাগুলির ৷ সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে মোটা অংকের ক্ষতি হতে দেখা গিয়েছে এই সব সংস্থার ৷ তার উপর আবার আদালতের নির্দেশে বকেয়া টাকা মেটানোর দায় এসে পড়ায় এক চরম আর্থিক চাপে পড়েছে সংস্থাগুলি৷

পরিস্থিতি জানিয়ে টেলিকম সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে আবেদন করা হয়েছিল ৷ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছিলেন তিনি চান না কোনও সংস্থা বন্ধ হোক৷ তারই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা তাদের স্পেকট্রামের বকেয়া কিস্তি দেওয়ার সময় দু’বছর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷ তবে লাইসেন্স ফি বাবদ বকেয়ার মেটানোর ক্ষেত্রে অবশ্য সময়সীমা কমানো হয়নি। কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন,বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট স্থির করে দিয়েছে ফলেই সরকার কিছু করার নেই। অর্থাৎ, এই লাইসেন্স ফি সংক্রান্ত বকেয়া নিয়ে কোনও আবেদন করতে হলে সেটা সুপ্রিম কোর্টের কাছেই করতে হবে।

ভোডাফোন আদালতের রায় ফিরে দেখতে আর্জি জানানোর সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়েছিল৷ আবার এয়ারটেলও রিভিউ পিটিশনের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিচ্ছিল৷ সূত্রের খবর শুক্রবার সবক’টি সংস্থাই আলাদা আলাদা ভাবে আর্জি জানিয়েছে যদিও এ নিয়ে তারা কোনও মন্তব্য করতে চায়নি ।
ইতিমধ্যেই সংস্থাগুলিও মাসুল বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে ৷ তবে মূ্ল্যায়ন সংস্থা ফিচ মনে করছে কেন্দ্র বকেয়া পেমেন্টের জন্য দুবছরে সময়সীমা বাড়ালেও তাতে তেমন কিছু সুরাহা হবে বলে মনে করছে না৷