নয়াদিল্লি: একটি উড়ো ফোন৷ আর তাতেই হুলুস্থুলু পড়ে গিয়েছে দেশের সব বিমানবন্দরে৷ হুমকি ফোনের জেরে সব বিমানবন্দরে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট৷ প্রতিটি বিমানবন্দরে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা৷ বিমানবন্দরে ঢোকা সব গাড়ির উপর রাখা হচ্ছে বাড়তি নজর৷ সন্দেহজনক কিছু দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

সম্প্রতি মুম্বইয়ের এয়ার ইন্ডিয়ার কন্ট্রোল রুমে একটি উড়ো ফোন আসে৷ হুমকি দিয়ে বলা হয় কান্দাহারের মতো ফের হাইজ্যাক করা হবে ভারতীয় কোনও বিমান৷ এই ধরনের হুমকি ফোনকে সচরাচর হালকাভাবে নেওয়া হয় না৷ এক্ষেত্রেও নেওয়া হয়নি৷ তবে হুমকি ফোন চিন্তায় ফেলে দিয়েছে মুম্বই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে৷ কিছুদিন আগেই পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে৷ এই পরিস্থিতিতে বিমান হাইজ্যাকের হুমকি কপালে চিন্তার ভাজ ফেলে দিতে বাধ্য৷ তারপরেই নিরাপত্তা এজেন্সি দেশের সব বিমানবন্দরে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে৷

বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিটি বিমানবন্দরের প্রবেশ ও বাইরের পথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করতে বলা হয়েছে৷ বিমানবন্দর সংলগ্ন রাস্তায় নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়েছে৷ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের বিমানগুলিতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে৷ বিশেষ করে পাকিস্তানের আকাশ ছুঁয়ে যে বিমানগুলি গাল্ফ যায় সেই বিমানগুলিকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে৷

দেশের অধিকাংশ বিমানবন্দরগুলিতে নিরাপত্তা দেয় সিআইএসএফ৷ তাদের তরফে বিমানবন্দরগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে৷ এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, বিমানবন্দরে প্রবেশ পথে স্পিড ব্রেকার বসানো হয়েছে৷ প্রতিটি চেক পয়েন্টে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে৷ এছাড়া এয়ারলাইন্সগুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে সেকেন্ডারি ল্যাডার পয়েন্ট চেকিং ব্যবস্থা শুরু করার৷ যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু আগে বিমানবন্দরে আসার আর্জি জানানো হয়েছে৷ কেননা এতগুলি নিরাপত্তার স্তর পেরোতে সময় লাগবে৷ এছাড়া সুইপিং স্কোয়াডকে নামানো হয়েছে৷ যাদের কাজ হল সন্দেহভাজন যাত্রীদের চিহ্নিত করা৷ সব বিমানবন্দরে এদের নামানো হয়েছে৷ এছাড়া ডগ স্কোয়াড, বম্ব স্কোয়াডকে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে৷