নয়াদিল্লি: অক্টোবরের শেষ দিকে আবহাওয়ার বদল ঘটছে। দরজায় কড় নাড়ছে শীত। অন্য বছরের মতো শীতের মরশুম শুরুর ঠিক আগে থেকেই দিল্লি ঢাকছে দূষণে। শনিবার রাজধানীর কালিন্দি কুঞ্জ, যশোলা দক্ষিণ দিল্লির পূর্ব কৈলাশ এলাকায় প্রবল বায়ু দূষণ চোখে পড়েছে। দিনের আলো ফোটার পরেও ধোঁয়াশায় ঢেকে ছিল বিস্তীর্ণ প্রান্ত।

শনিবার সকালে দিল্লির যশোলা এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স ছিল ৪৩১। কেন্দ্রীয় ধূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের বিচার অনুযায়ী দূষণের এই সূচক গুরুতর বা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। শীতের মরশুম শুরু ঠিক আগে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়াশা চোখে পড়ায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরাও।

এবারও শীত পড়তেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত ধোঁয়াশায় ঢেকে যাবে বলে আশঙ্কা করতে শুরু করেছেন অনেকে। এছাড়াও সামনেই দীপাবলি। আতসবাজির ধোঁয়ার সঙ্গে বাতাসে ভেসে থাকা ধূলিকণা মিশে দূষণ-পরিস্থিতি বিপজ্জনক করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দিল্লিতে ধোঁয়াশা বা বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হল লাগোয়া রাজ্যগুলিতে নির্বিচারে ফসলের গোড়া পোড়ানো। এবারও তার অন্যথা হয়নি। আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই দিল্লি লাগোয়া পঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় চলছে ফসলের গোড়া পোড়ানো।

প্রবল বায়ু দূষণের তোয়াক্কা না করেই জমি থেকে ফসল তুলে নেওয়ার পর গোড়া পোড়াচ্ছেন একাংশের কৃষক। সম্পূর্ণ বেআইনি এই কাজ করে তাঁদের যুক্তি, জমি থেকে ফসলের গোড়া তুলতে গেলে যে টাকার প্রয়োজন তা তাঁদের নেই। বাধ্য হয়েই জমিতেই ফসলের গোড়া পোড়াচ্ছেন তাঁরা।

প্রতি বছর শীতকালে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফসলের গোড়া পোড়ানোর জেরে প্রবল বায়ু দূষণ হয়। দূষণের ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে রাজধানী দিল্লিতেও। পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ-সহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ফসলের গোড়া পোড়ানোর জেরে বায়ু দূষণ চরম আকার নেয়।

ফসলের গোড়া পোড়ানো রুখতে আদালতে মামলা হয়। সেই মামলায় আদালত স্পষ্ট জনিয়ে দেয়, এই প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে। কিছুতেই জমিতে ফসলের গোড়া পোড়ানো যাবে না। রাজ্যগুলিকে এব্যাপারে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেয় আদালত।

দেশে এবং বিদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে টানা দু'দশক ধরে কাজ করেছেন । বাংলাদেশ থেকে মুখোমুখি নবনীতা চৌধুরী I