নয়াদিল্লি : পাইলট করোনা আক্রান্ত ছিলেন। তারপরেও বিমান চালিয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই বিতর্কের মুখে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া। এবার সেই বিতর্ক থামাতে নয়া নির্দেশিকা জারি করল এই বিমান সংস্থা। এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিমান উড়ানের আগে, সব কেবিন ক্রু ও বিমান কর্মীদের করোনা টেস্টের ফল নেগেটিভ হতে হবে।

প্রি ফ্লাইট টেস্ট করা হবে সব কর্মীদের। তারপরেই ফল জেনে উড়ানের অনুমতি পাবে সংশ্লিষ্ট কর্মী বলে জানিয়েছে এই বিমান সংস্থা। এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সংস্থার পক্ষ থেকে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ে প্রকাশিত এক সার্কুলারে এয়ার ইন্ডিয়ার এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর (অপারেশনস) ক্যাপ্টেন আর এস সান্ধু এমনই জানিয়েছেন।

এভবেই সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। এতে বিমানযাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়াবে না। যে বিমান উড়ানের জন্য প্রস্তুত, সেই বিমান কর্মীদের করোনা পরীক্ষা করাতেই হবে, এবং ফল নেগেটিভ আসতে হবে। তবেই বিমানে ওঠার ছাড়পত্র পাবে ওই কর্মী।

সার্কুলারে বলা হয়েছে সেই কর্মীকেও নিজের শরীরের খেয়াল রাখতে হবে। কোথাও কোনও সমস্যা দেখা গেলেই সংস্থাকে জানানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

সান্ধু জানাচ্ছেন এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলট যেভাবে নিজের রোগ লুকিয়ে কাজ করেছিলেন, তা এয়ার ইন্ডিয়ার ভাবমূর্তিকে নষ্ট করেছে। এই ধরণের আচরণ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না।

সংবাদসংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, ওই বিমানটিতে কোনও যাত্রী ছিলেন না। মাঝপথেই কেবিন ক্রুদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা পাইলটকে পরীক্ষা করেন। সেখানেই করোনার বেশ কিছু লক্ষ্ণণ ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিকে ফেরত আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কি করে এই ভুল হল, একজন করোনা আক্রান্ত পাইলট কি করে বিমান উড়ানের অনুমতি পেলেন, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ডিজিসিএ। এয়ার বাস A320 NEO উড়ানের পর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। প্রাথমিকভাবে ওই বিমানচালকের উড়ানের অনুমতি পাওয়ার কথা নয়, যদি তিনি করোনা আক্রান্ত হন বলে মনে করছে ডিজিসিএ।

শনিবার সকাল সাতটায় দিল্লি থেকে উড়ান শুরু করে ওই বিমানটি। ফেরত আসে দুপুর সাড়ে বারোটায়। তড়িঘড়ি সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মস্কোতে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিয়ে আসতে রওনা দিয়েছিল A320। ফলে দিল্লি থেকে কোনও যাত্রী তাতে ছিল না। উজবেকিস্তানে পৌঁছে জানা যায়, ওই পাইলট অসুস্থ।

এয়ার ইন্ডিয়া সূত্রের খবর, ওই বিমানের কেবিন ক্রুদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। অন্য একটি বিমানের ব্যবস্থা করে তা মস্কোর উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প